“পুলিশকে জানিয়েও বাঁচানো গেল না!”-আমেরিকায় নৃশংসভাবে খুন ভারতীয় তরুণী

ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোয় এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলাকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ৩৮ বছর বয়সি শালিনী ঠাকুরকে বেশ কয়েক মাস ধরে লাগাতার অনুসরণ ও হয়রানি করার অভিযোগ ছিল ২২ বছরের রোহিত নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার কর্মস্থলের বাইরে একটি রেস্তোরাঁর সামনে তাঁকে গুলি করে খুন করা হয়। পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় অভিযুক্ত যুবকও আত্মঘাতী হয়। শালিনীর মায়ের স্পষ্ট অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের কাছে হয়রানির কথা জানিয়েও তাঁর মেয়েকে কোনও নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি।

স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি শেরিফের অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শালিনী আর্ডেন আর্কেড এলাকার একটি শপিং প্লাজ়ায় কাজ করতেন। মঙ্গলবার কর্মস্থলে পৌঁছনোর পর রোহিত তাঁর পথ আটকায়। দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে শালিনী পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু অভিযুক্ত তাঁকে ধাওয়া করে। স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁর বাইরে তাঁকে লক্ষ্য করে একাধিকবার গুলি চালানো হয় এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই মর্মান্তিক ঘটনা হঠাৎ ঘটেনি, বরং গত কয়েক মাস ধরে শালিনীর জীবন নরকতুল্য করে তুলেছিল রোহিত।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শালিনী নিজের গাড়ির তলায় একটি অ্যাপল এয়ারট্যাগ লুকানো অবস্থায় দেখতে পান, যার মাধ্যমে তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। এমনকি তাঁর গাড়ির টায়ারের হাওয়া বের করে দেওয়া এবং কর্মস্থল পর্যন্ত তাঁকে অনুসরণ করার বহু প্রমাণ সামনে এসেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, রোহিত শালিনীর অ্যাপার্টমেন্টের নকল চাবি তৈরি করে তিনি যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন জোর করে তাঁর ঘরে ঢুকে পড়েছিল। শালিনী এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে অভিযুক্ত সাফাই দেয় যে, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না করায় কোনো বিপদ হয়েছে কি না তা দেখতেই সে ভিতরে প্রবেশ করেছিল।

মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুর পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন শালিনীর মা। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পুলিশ তাঁর মেয়েকে রক্ষা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এদিকে তদন্তে জানা গেছে, রোহিতের স্থানীয়ভাবে কোনো অপরাধের পূর্ব রেকর্ড না থাকলেও সে একজন ভারতীয় নাগরিক এবং ২০২৩ সালে অবৈধভাবে অ্যারিজ়োনা সীমান্ত দিয়ে আমেরিকায় প্রবেশ করেছিল। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী অতীতে তাকে আটক করলেও বাইডেন প্রশাসন তাকে ছেড়ে দিয়েছিল। প্রশাসনের সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলেই যে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এড়ানো গেল না, সেই অভিযোগও জোরালোভাবে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *