বিদ্যুতের বিল ছাড়াই ঘর ঠান্ডা করবে দেশি এসি! গরমে হাঁসফাঁস করা মানুষের ত্রাতা হয়ে এল দ্বাদশ শ্রেণির কিশোরী

গ্রীষ্মের দাবদাহে হাঁসফাঁস করা মানুষের কাছে এয়ার কন্ডিশনার আজ আর বিলাসিতা নয়, বরং বহু মানুষের কাছেই তা একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু অগ্নিমূল্য বাজারে দামি এসি কেনা এবং প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের বিদ্যুতের বিল মেটানো সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত বা আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের কাছে গরমের সঙ্গে লড়াই করাটাই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আর ঠিক সেই জায়গাতেই তাক লাগিয়ে দিল ঝাঁসির ১৬ বছরের এক কিশোরী। মাত্র ১৮০০ টাকা খরচে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে একটি দুর্দান্ত ‘দেশি এসি’ তৈরি করে সে এখন ইন্টারনেটের চর্চায়।

মাত্র ১৮০০ টাকায় তৈরি ‘Desi AC’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী কল্যাণী শ্রীবাস্তব এমন একটি অভিনব কুলিং সিস্টেম তৈরি করেছেন, যার নাম দিয়েছেন ‘Desi AC’। বাজারে প্রচলিত দামি এয়ার কন্ডিশনারের তুলনায় এই যন্ত্র তৈরিতে খরচ হয়েছে জলের দরে— মাত্র ১৮০০ টাকা। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর ব্যবহারে সাধারণ এসি-র মতো বিপুল পরিমাণে বিদ্যুৎ খরচ হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই।

কীভাবে কাজ করে এই দেশি এসি?
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, এই যন্ত্রটির মূল কাঠামো তৈরি করা হয়েছে একটি সাধারণ থার্মোকলের আইসবক্স দিয়ে। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ১২ ভোল্টের একটি ডিসি ফ্যান। আইসবক্সের ভিতরে রাখা হয় বরফ, আর ফ্যানটি সেই ঠান্ডা বরফের ওপর দিয়ে বাতাস টেনে বাইরে বের করে দেয়। বাতাস বেরনোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে একটি এলবো-আকৃতির আউটলেট। এর ফলে বরফের সংস্পর্শে বাতাস প্রবলভাবে ঠান্ডা হয়ে ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

নির্মাতাদের দাবি, এই প্রক্রিয়াটি মাত্র এক ঘণ্টা চালালেই ঘরের তাপমাত্রা প্রায় ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব। অর্থাৎ, বিশাল ঘর ঠান্ডা করার বদলে এটি ছোট ঘর বা নির্দিষ্ট এলাকায় স্বল্প খরচে দারুণ আরাম দিতে পারে।

সীমাবদ্ধতা বনাম বড় সাফল্য
অবশ্য এটিকে প্রচলিত কমপ্রেসর-ভিত্তিক এসি-র সরাসরি বিকল্প হিসেবে ভাবার আগে কিছু বাস্তব দিক মাথায় রাখাও জরুরি। এটি মূলত বরফ ও ফ্যানের মেকানিজমের ওপর কাজ করে। ফলে এর কুলিং ক্ষমতা, বরফের স্থায়িত্ব এবং নিয়মিত বরফ পরিবর্তনের বিষয়টি ব্যবহারিক ক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হয়।

তবে সমস্ত সীমাবদ্ধতাকে ছাপিয়েও ১৬ বছরের এক কিশোরীর এই ভাবনা এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। সীমিত সম্পদ ও কৌতূহলকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান করা যায়, ঝাঁসির কল্যাণীর এই আবিষ্কার তারই এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *