মারুতির এই সস্তার গাড়িটি কেনার লোকই নেই! এক ধাক্কায় ৯২ শতাংশ বিক্রি কমে যাওয়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ

ভারতের গাড়ি বাজারে মারুতি সুজুকির (Maruti Suzuki) বরাবরই এক আলাদা কদর ও আধিপত্য রয়েছে। গত আগস্ট ২০২৬-এও ওয়াগনআর, ফ্রনক্স, সুইফট কিংবা এরটিগার মতো জনপ্রিয় মডেলগুলি দারুণ ব্যবসা করেছে। কিন্তু এতকিছুর পরেও মারুতির অন্যতম সস্তা এবং জনপ্রিয় এন্ট্রি-লেভেল গাড়ি এস-প্রেসো (Maruti Suzuki S-Presso)-র অবস্থা গত মাসে একেবারেই শোচনীয় হয়ে পড়েছিল। পরিসংখ্যান বলছে, আগস্ট ২০২৬-এ মারুতি সুজুকি এস-প্রেসো মাত্র ১০৭টি ইউনিট বিক্রি করতে পেরেছে! অথচ ঠিক আগের বছর অর্থাৎ গত বছরের একই মাসে এই গাড়িটির ১,৩৩৩৩টি ইউনিট বিক্রি হয়েছিল। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে এই জনপ্রিয় মডেলের বিক্রি প্রায় ৯২ শতাংশ কমে গেছে। যেখানে মারুতির বাকি গাড়িগুলির বিক্রি আকাশছোঁয়া, সেখানে এস-প্রেসোর এই রেকর্ড পতন এখন অটোমোবাইল বাজারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

দারুণ লুক ও আকর্ষণীয় ফিচার্স
মাইক্রো-এসইউভি স্টাইলের ডিজাইনই হল এই গাড়ির সবথেকে বড় আকর্ষণ। বোল্ড ফ্রন্ট গ্রিল, উঁচু গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স এবং বক্সি লুক সবমিলিয়ে গাড়িটিকে একটি মিনি এসইউভি-র ফিল দেয়। এর ভিতরের কেবিনেও রয়েছে চমক। মিনি কুপার গাড়ির কথা মনে করিয়ে দেওয়ার মতো আকর্ষণীয় গোলাকার সেন্টার কনসোল ও ডিজিটাল স্পিডোমিটার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অ্যান্ড্রয়েড অটো এবং অ্যাপল কারপ্লে সাপোর্ট সহ একটি ৭-ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেমও রয়েছে।

সুরক্ষা ও উন্নত ইঞ্জিন ক্ষমতা
নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই গাড়িতে ডুয়াল এয়ারব্যাগ, EBD সহ ABS, রিয়ার পার্কিং সেন্সর, স্পিড অ্যালার্ট সিস্টেম এবং সিট বেল্ট রিমাইন্ডারের মতো ফিচার্স স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে রাখা হয়েছে। যদিও গ্লোবাল এনসিএপি (Global NCAP) ক্র্যাশ টেস্টে এই গাড়িটি খুব একটা ভালো রেটিং পায়নি, তবুও বর্তমানের নতুন মডেলগুলিতে ইলেকট্রনিক স্টেবিলিটি প্রোগ্রাম (ESP) এবং হিল হোল্ড অ্যাসিস্টের মতো জরুরি ফিচার যোগ করা হয়েছে। হালকা ওজনের ‘Heartect’ প্ল্যাটফর্মে তৈরি হওয়ায় শহরের ব্যস্ত রাস্তায় এই গাড়ি ড্রাইভ করা বেশ সুবিধাজনক।

পারফরম্যান্সের দিক থেকে এস-প্রেসোতে রয়েছে ১.০ লিটারের K10C পেট্রোল ইঞ্জিন, যা ৬৬ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ৮৯ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। এতে ৫-স্পিড ম্যানুয়াল এবং এএমটি (AMT) গিয়ারবক্সের অপশন রয়েছে। পেট্রোল ভেরিয়েন্টে এই গাড়ি প্রতি লিটারে ২৪.১২ থেকে ২৫.৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত দুর্দান্ত মাইলেজ দেয়। পাশাপাশি, এর সিএনজি ভেরিয়েন্ট প্রতি কেজিতে ৩২.৭৩ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে সক্ষম বলে দাবি কোম্পানির।

কম দামে দুর্দান্ত প্যাকেজ তবুও কেন এই অবস্থা?
মারুতি সুজুকি এস-প্রেসোর এক্স-শোরুম দাম শুরু হয় মাত্র ৩.৪৯ লক্ষ টাকা থেকে এবং টপ মডেলের দাম ৫.২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এত কম দাম, আকর্ষণীয় মাইলেজ এবং কমপ্যাক্ট সিটির মতো একাধিক পজিটিভ দিক থাকা সত্ত্বেও বিক্রিতে কেন এমন আকাশছোঁয়া পতন ঘটল, তা নিয়ে এখন অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের অন্দরে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *