একসঙ্গে তিন সন্তানকে দূরে পাঠিয়ে চরম অবসাদে ফারাহ খান! কোন ভয়ংকর মানসিক রোগের শিকার হলেন পরিচালক?

পড়াশোনা বা কেরিয়ারের তাগিদে সন্তানরা যখন প্রথমবার বাড়ি ছাড়ে, তখন বাবা-মায়ের জীবনে এক অদ্ভুত শূন্যতা তৈরি হয়। ঘর-দোর আগের মতো থাকলেও হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায় সেই চিরচেনা কোলাহল। বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ফারাহ খান কুন্দারের জীবনেও বর্তমানে ঠিক এমনই এক কঠিন সময় এসেছে। একসঙ্গে তাঁর তিন সন্তান—জার, ডিভা এবং আনিয়া উচ্চশিক্ষার জন্য তিনটি ভিন্ন শহর ও ক্যাম্পাসে পাড়ি দিয়েছেন। একসঙ্গে তিন সন্তানকে দূরে পাঠানোর এই অভিজ্ঞতা তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে, যা তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারও করেছেন।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ফারাহ খান এই মুহূর্তে ‘এমটি নেস্ট সিনড্রোম’ (Empty Nest Syndrome)-এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সন্তানরা ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার পর বাবা-মায়ের মনে যে গভীর একাকীত্ব, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ ও শূন্যতার সৃষ্টি হয়, তাকেই চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই নামে ডাকা হয়। যে সমস্ত বাবা-মায়ের দৈনন্দিন জীবন দীর্ঘ সময় ধরে আবর্তিত হয় শুধু সন্তানদের কেন্দ্র করেই, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের আঘাত অত্যন্ত তীব্র হয়।

এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার কিছু কার্যকরী উপায়:

  • সম্পর্কের নতুন রূপ: সন্তান কলেজে চলে গেলেই যে সমস্ত সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়, তা নয়; বরং সম্পর্কের রূপ বদলায়। প্রতিটি ছোট সিদ্ধান্তে সরাসরি নাক না গলিয়ে, এখন তাদের একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসেবে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার স্বাধীনতা দিতে হবে।

  • অতিরিক্ত উদ্বেগ এড়ানো: প্রতি মুহূর্তে ফোন করা বা ট্র্যাক করার প্রবণতা সন্তানরা অনেক সময় ভালো ভাবে নেয় না। তাই এমন একটি সুষম যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় রাখা দরকার, যা সন্তানের স্বাধীনতা এবং বাবা-মায়ের মানসিক শান্তি—উভয়কেই সম্মান করে।

  • নিজেকে সময় দেওয়া ও নতুন শখ: জীবনকে শুধু সন্তানদের কেন্দ্র করে না রেখে, নিজেদের পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন, নতুন কোনো শখ বা কাজ শুরু করা এই শূন্যতা কাটাতে দারুণ সাহায্য করে। নিজের একটি শক্তিশালী আবেগীয় জীবন থাকলে সন্তানদের ওপর মানসিক নির্ভরতা অনেকটাই কমে যায়।

  • উপদেশ নয়, আগে কথা শুনুন: সন্তান দূরে থাকলে প্রতিটি ফোন কলকেই উপদেশ দেওয়ার সুযোগ না বানিয়ে, অনেক সময় শুধু তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা জরুরি। নিজের অভিজ্ঞতা বা সিদ্ধান্ত তাদের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।

সন্তানদের ডানা মেলে উড়তে দেওয়া এবং শারীরিক দূরত্ব সত্ত্বেও পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক বজায় রাখাই এই কঠিন মানসিক পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার মূল চাবিকাঠি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *