গালওয়ানের পর প্রথমবার ভারতে পা রাখছেন শি জিনপিং! ব্রিকস সম্মেলনে চিনা প্রেসিডেন্টের আগমন ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা।

তিনি আসববেন নাকি শেষ পর্যন্ত আসছেন না— তা নিয়ে দীর্ঘ জল্পনা ও ধোঁয়াশা ছিল। তবে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারতে নিযুক্ত চিনা দূত স্পষ্ট করে দিলেন যে, আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে আসছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে বসতে চলেছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন (BRICS Summit 2026)। ২০২০ সালে গালওয়ানে সীমান্ত সংঘর্ষের জেরে ভারত-চিন সম্পর্কে মারাত্মক টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল। তারপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে এটিই হতে চলেছে চিনা প্রেসিডেন্টের প্রথম ভারত সফর।

দিল্লি সফরে শি জিনপিং

বৃহস্পতিবার ভারতে নিযুক্ত চিনের রাষ্ট্রদূত সু ফেইহং আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন। এর আগে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এই বিষয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা তৈরি করা হলেও, অবশেষে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে তাঁর সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে চেন্নাইয়ের কাছে মামাল্লাপুরমে মোদীর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে যোগ দিতে শেষবার ভারত এসেছিলেন শি। ২০১৪ ও ২০১৬ সালে যথাক্রমে দিল্লি ও গোয়াতেও ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

ব্রিকস জোটের গুরুত্ব

চলতি বছরের এই মেগা সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের উপস্থিতির কথা আগেই নিশ্চিত হয়েছিল। বর্তমান বিশ্বে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাশাহ এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো উদীয়মান অর্থনীতিগুলিকে নিয়ে গঠিত ব্রিকস এখন একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রভাবশালী বৈশ্বিক জোটে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকারী এই জোটে চিনা প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *