অভিষেক বিদেশ যেতেই ১২১ কালীঘাট রোড থেকে গ্রেফতার আপ্তসহায়ক! নিউ জার্সির ‘হাভেলি’ ও বিলাসবহুল জীবন নিয়ে বিস্ফোরক মদন মিত্র।

শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় বড়সড় মোড়। দীর্ঘ আইনি টানাপড়েনের পর সম্প্রতি চিকিৎসার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশ যাওয়ার ঠিক পরেই, তাঁরই ১২১ কালীঘাট রোডের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হলো তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে। গ্রেফতারির পর সুমিতকে প্রথমে ভবানী ভবনে এবং পরবর্তীতে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়। এই আকস্মিক পদক্ষেপে রাজ্য রাজনীতিতে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মদন মিত্রের বিস্ফোরক মন্তব্য
ঘটনাটি সামনে আসতেই বিরোধীদের পাশাপাশি শাসক শিবিরের অন্দরেও শুরু হয়েছে গুঞ্জন। বিধানসভা চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র এই গ্রেফতারি প্রসঙ্গে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চিকিৎসা করাতে গেছেন, ভালো কথা। কিন্তু নিউ জার্সির লং আইল্যান্ডের মতো এত দামি জায়গায় ভিলা বা প্যালেস নিয়ে তিনি থাকছেন! প্রশাসনকে বলব একটু খোঁজ নিতে। একদিকে চার্টার্ড ফ্লাইট আর অন্যদিকে উচ্চবিত্তের লাইফস্টাইল, আর এদিকে সুমিত রায় গ্রেফতার!”
অভিষেকের বিদেশযাত্রা এবং তাঁর সহকারীর গ্রেফতারে দলের অর্থ উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই প্রবীণ নেতা। তাঁর সংযোজন, “কালীঘাট তৃণমূল এত টাকা কোথায় পাচ্ছে? ঝটকা খেয়েছিলাম। নিউ জার্সিতে একটা হাভেলি নিতে হয়! বাংলার মানুষ সব দেখছে।”
প্রতীক সংক্রান্ত জটিলতা
অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রতীক কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তৎপরতাও তুঙ্গে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লি কমিশনে দুই শিবিরকেই তলব করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আত্মবিশ্বাসী সুর চড়িয়ে মদন মিত্র দাবি করেছেন যে, নির্বাচন কমিশনে শিক্ষিত ও মার্জিত মানুষেরা রয়েছেন, তাই শেষ পর্যন্ত প্রতীক তাঁদের দখলেই থাকবে এবং তাঁরাই আসল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন।