একই ব্যাঙ্কে দুটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট রাখা কি বুদ্ধিমানের কাজ? জেনে নিন এর লাভ ও লোকসানের খতিয়ান!

প্রয়োজন অনুযায়ী অনেকেই একই ব্যাঙ্কে দুটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট রেখে থাকেন। একটি অ্যাকাউন্টে যেমন বেতন বা নিয়মিত আয় জমা হয়, তেমনই অন্যটি অনলাইন শপিং, জরুরি সঞ্চয় বা নির্দিষ্ট খরচের জন্য ব্যবহার করা হয়। একই ব্যাঙ্কে একাধিক অ্যাকাউন্ট রাখা বেআইনি না হলেও, এর যেমন কিছু সুবিধা রয়েছে, তেমনই রয়েছে বেশ কিছু মারাত্মক অসুবিধা। জেনে নেওয়া যাক এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য।

একই ব্যাঙ্কে দুটি অ্যাকাউন্ট রাখার সুবিধা

  • বাজেট ও খরচ নিয়ন্ত্রণ: দুটি অ্যাকাউন্ট থাকলে টাকা ভাগ করে রাখা খুব সহজ হয়। একটি অ্যাকাউন্ট থেকে সংসারের দৈনন্দিন খরচ চালানো যায় এবং অন্যটিতে জমানো হয় সঞ্চয়ের টাকা। ফলে কোথায় কত খরচ হচ্ছে, তার সঠিক হিসাব রাখা সহজ হয়।

  • সঞ্চয়ে সুবিধা: মাসের শুরুতেই বেতন বা আয়ের টাকা হাতে পাওয়ার পর নির্দিষ্ট কিছু অংশ দ্বিতীয় অ্যাকাউন্টে সরিয়ে রাখা যায়। এর ফলে দৈনন্দিন খরচের সঙ্গে সঞ্চয়ের টাকা মিশে যায় না এবং অপ্রয়োজনীয় খরচও কমে।

  • ভিন্ন অ্যাকাউন্ট অফার: একই ব্যাঙ্কে বিভিন্ন ধরনের সেভিংস অ্যাকাউন্ট থাকলে বিভিন্ন ক্যাশব্যাক, বেশি রিওয়ার্ড পয়েন্ট বা জিরো ব্যালেন্সের মতো সুযোগ-সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব।

দুটি অ্যাকাউন্ট রাখার বড় অসুবিধা ও ঝুঁকি

  • মিনিমাম ব্যালেন্সের চাপ: যদি দুটি অ্যাকাউন্টেই মাসিক বা ত্রৈমাসিক গড় ব্যালেন্স বজায় রাখার শর্ত থাকে, তবে উভয় অ্যাকাউন্টেই পর্যাপ্ত অর্থ রাখতে হয়। নতুবা ন্যূনতম জমার পরিমাণ কমে গেলে ব্যাঙ্ক মোটা অঙ্কের জরিমানা কাটতে পারে।

  • অতিরিক্ত চার্জ: দুটি আলাদা অ্যাকাউন্টের জন্য ডেবিট কার্ড বা এটিএম কার্ড ফি, এসএমএস অ্যালার্ট চার্জ, চেকবুক চার্জ ইত্যাদি আলাদাভাবে দিতে হয়। এর ফলে আপনার সার্বিক ব্যাঙ্কিং খরচ অনেকটাই বেড়ে যায়।

  • হিসাব রাখার ঝামেলা: কোন অ্যাকাউন্টে ঠিক কত টাকা আছে বা কোন অ্যাকাউন্ট থেকে কোন পেমেন্ট করা হচ্ছে, তা মনে রাখা বেশ ঝামেলার। এছাড়া কোনো একটি অ্যাকাউন্ট দীর্ঘকাল নিষ্ক্রিয় বা ব্যবহার না করা হলে সেটি ‘ডরম্যান্ট’ বা অবরুদ্ধ হয়ে যেতে পারে।

ব্যাঙ্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আপনার একটি অ্যাকাউন্ট দিয়েই সমস্ত প্রয়োজন মিটে গেলে অতিরিক্ত অ্যাকাউন্ট রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে একান্তই দুটি অ্যাকাউন্ট রাখতে চাইলে, আগে থেকেই প্রতিটি অ্যাকাউন্টের মিনিমাম ব্যালেন্সের শর্ত এবং অন্যান্য চার্জের বিষয়টি ভালো করে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *