অ্যানিম্যাল হিট হতেই পর্দায় হিংসার সুনামি! হিন্দি ইন্ডাস্ট্রির এই নোংরা প্রবণতা নিয়ে কী বললেন বেবো?

পর্দায় অতিরিক্ত রক্তারক্তি, ‘পুরুষত্বে’র নামে নোংরা আগ্রাসন আর নারীবিদ্বেষ বিক্রি করে বক্স অফিসে কোটি কোটি টাকা পকেটে তোলা কি এখন বলিউডের একমাত্র চালিকাশক্তি? সিনেমাকে সমাজের আয়না বলা হলেও, রুপোলি পর্দায় হিংসার এই রমরমা ট্রেন্ড নিয়ে আগেই মুখ খুলেছিলেন করিনা কাপুর খান। এবার তাঁর আসন্ন ছবি ‘দায়রা’-র প্রচারের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভাই রণবীর কাপুরের মেগাহিট ছবি ‘অ্যানিম্যাল’-এর প্রসঙ্গ তুলে গোটা বলিউডকে একহাত নিলেন তিনি। হিন্দি ইন্ডাস্ট্রিকে সরাসরি ‘ভেড়ার পাল’-এর সঙ্গে তুলনা করে বেবোর সাফ কথা, “একটি হিংসাত্মক ছবি হিট করেছে বলেই সবাই অন্ধের মতো সেই একই পথ ধরে ছুটছেন!”
হিংসাত্মক ছবির রমরমা ও ইন্ডাস্ট্রির অন্ধ অনুকরণ
হিন্দি চলচ্চিত্রে রাগী নায়কের কনসেপ্ট বা ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ থিম একেবারেই নতুন কিছু না হলেও, সাম্প্রতিককালে স্ক্রিনে ‘আলফা মেল’ সংস্কৃতি ও রক্তারক্তি অ্যাকশনের বাড়বাড়ন্ত দেখা গেছে। ‘অ্যানিম্যাল’ থেকে শুরু করে বেশ কিছু ছবি বক্স অফিসে তুমুল সাফল্যের মুখ দেখেছে। পর্দায় নায়কদের এই ধরনের হিংস্র অবতারে দর্শক টানলেও, এর জেরে বলিউড তার আসল মৌলিকত্ব হারাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই মারকাটারি ট্রেন্ড প্রসঙ্গে করিনা স্পষ্ট জানান, সিনেমা তৈরিতে জোর করে কোনো নির্দিষ্ট ফর্মুলা চাপিয়ে দেওয়া এখন আর সম্ভব নয়। তাঁর মতে, আজকের দর্শক অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং তাঁরা ট্রেলার দেখেই সিনেমার মান বিচার করেন। অভিনেত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আসলে আমাদের এখানে একটা ছবি হিট করলেই ‘ভেড়ার পালের মতো অন্ধ অনুকরণ’ করার প্রবণতা দেখা যায়। ‘অ্যানিম্যাল’ হিট করেছিল বলেই আজ সবাই মিলে হিংসা ও বিদ্বেষমূলক ছবি বানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।”
আশার আলো দেখছেন করিনা
তবে এই অন্ধ অনুকরণের মাঝেও আশার আলো দেখছেন করিনা। তাঁর বিশ্বাস, হিন্দি ইন্ডাস্ট্রিতে এখনও এমন কিছু দূরদর্শী পরিচালক রয়েছেন, যারা জোয়ারে ভেসে না গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নস্বাদের ও মানের সিনেমা তৈরি করছেন এবং দর্শকদের নতুন করে ভাবতে শেখাচ্ছেন। এই ব্যতিক্রমী কনটেন্টের হাত ধরেই বলিউডের আসল রূপ বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন এই শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রী।