২১ বছরে ২৫ বার বদলি! খাবারে ভেজাল রুখতে গিয়ে মহারাষ্ট্রে ত্রাস হয়ে উঠলেন এই ‘সিঙ্ঘম’ আইএএস অফিসার

খাদ্য ও ওষুধে ভেজাল কারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে এই মুহূর্তে গোটা মহারাষ্ট্রে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন ২০০৫ ব্যাচের আইএএস (IAS) অফিসার তুকারাম মুণ্ডে। বর্তমানে মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ (FDA)-র কমিশনার পদে দায়িত্ব সামলানো এই আমলার কড়া মেজাজ ও শৃঙ্খলাপরায়ণতার জেরে তাঁকে এখন রাজ্যের রিয়েল লাইফ ‘সিঙ্ঘম’ বলে সম্বোধন করতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।

চলতি বছরের ২৫ মে এফডিএ কমিশনার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পরেই அதிரকম অভিযানে নেমে পড়েন তুকারাম। গত ৩০ দিনের পরিসংখ্যান বলছে, তাঁর নেতৃত্বে রাজ্যের ৯০০-র বেশি ঠিকানায় হানা দিয়ে প্রায় ৩০০-র বেশি অবৈধ কারখানা সিল করে দেওয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ভেজাল খাদ্যসামগ্রী ও ১ লক্ষ ৬০ হাজার লিটার নকল দুধ। শুধু তাই নয়, আইন ভাঙার অভিযোগে ইতিমধ্যেই সাড়ে চারশো জনেরও বেশি অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৫৬টি নামী-দামী রেস্তোরাঁ ও হোটেলের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এমনকী, বম্বে হাইকোর্টের লাইসেন্সবিহীন ক্যান্টিনেও হানা দিতে একচুল পিছপা হননি তিনি।

তুকারাম মুণ্ডের এই মারকাটারি কাজের গতির পাশাপাশি তাঁর কেরিয়ারের একটি তথ্য সমানভাবে চর্চায় রয়েছে। প্রায় ২১ বছরের দীর্ঘ চাকরি জীবনে এখনও পর্যন্ত মোট ২৫ বার বদলির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। বালি মাফিয়া দমন থেকে শুরু করে অবৈধ নির্মাণ ভাঙা—প্রতিবারই নিজের সততা ও অনমনীয় মনোভাবের জন্য বারবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন এই আইএএস অফিসার। আগামী দিনেও ভেজালমুক্ত খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাঁর এই কঠোর পদক্ষেপ রাজ্যজুড়ে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *