উপনির্বাচনের আগেই চরম উত্তেজনা! পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের মারাত্মক অভিযোগ তুলে সোজাসুজি কমিশনকে চিঠি তৃণমূলের

আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়ে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠিয়েছে শাসকদল। তৃণমূলের পক্ষে এই চিঠিতে সই করেছেন দলের চেয়ারম্যান অরূপ রায়।
চিঠিতে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, শাসকদলের মদতে প্রশাসনের একাংশ চরম পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে একপ্রকার ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। বিরোধী কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতে সরকারি যন্ত্র ও পুলিশি ব্যবস্থাকে বেপরোয়াভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক ভুয়ো ও মিথ্যা মামলা সাজিয়ে জেলে পোরা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ কিংবা মিছিল করার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতির আবেদনপত্র পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসন গ্রহণ বা প্রক্রিয়াকরণ করছে না। এমনকি বিভিন্ন পরিবহণ সংগঠনগুলির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার অপচেষ্টা চলছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাশাপাশি, পুলিশি হয়রানির আরও এক নতুন চিত্র তুলে ধরে তৃণমূল জানিয়েছে, দলের বহু সমর্থক ও ভোটারকে কোনওরকম লিখিত বা আনুষ্ঠানিক নোটিস না দিয়েই ফোন করে থানায় ডেকে পাঠানো হচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে মানসিক হেনস্তা করা হচ্ছে। এর বাইরেও ভোটার তালিকা সংশোধন ও এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দল। দাবি করা হয়েছে, বৈধ ভোটারদের একটি বড় অংশের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার কারণে তাঁরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য জমা পড়া আবেদনগুলি নিয়ে যাতে দ্রুত সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এ বিষয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, সেই আর্জিও জানানো হয়েছে।
চিঠির শেষ অংশে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অরূপ রায় লিখেছেন, নিরপেক্ষতা ও পূর্ণ দায়বদ্ধতার সঙ্গেই নির্বাচন পরিচালনা করা কমিশনের প্রধান কাজ। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে যে সমস্ত গুরুতর অভিযোগ ও আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলির বিষয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ করার কড়া বার্তা দিয়েছে তৃণমূল। সবমিলিয়ে, উপনির্বাচনের ময়দানে নামার আগেই ভোটের পরিবেশ নিয়ে এই অভিযোগ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।