চাঁদ পেরিয়ে আরও দূরে পাড়ি দেবে মানুষ! ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযান নিয়ে বিস্ফোরক বার্তা সুনীতা উইলিয়ামসের

ভবিষ্যতে চাঁদের সীমানা ছাড়িয়ে মহাকাশের আরও গভীরে পাড়ি দেবে মানুষ, আর সেই অভিযানের সফলতা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর। বেঙ্গালুরু স্পেস এক্সপোর নবম সংস্করণে যোগ দিয়ে এমনটাই স্পষ্ট জানালেন মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস। ‘দ্য নেক্সট চ্যাপ্টার অব স্পেস’ শীর্ষক একটি বিশেষ আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি জানান যে, মহাকাশ গবেষণায় আর কোনো একটি দেশের পক্ষে একা এগিয়ে চলা সম্ভব নয়, বরং বিশ্বের সমস্ত দেশের বিজ্ঞানীদের যৌথ অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিই মানবজাতিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।
ভবিষ্যতের মহাকাশ স্টেশনগুলির কার্যকারিতা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সুনীতা উইলিয়ামস জানান, পৃথিবী থেকে যত দূরে মানুষ অবস্থান করবে, স্পেস স্টেশনগুলিকে ততই বেশি স্বনির্ভর হতে হবে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএস (ISS)-এর ক্ষেত্রে কোনো জরুরি সমস্যার সমাধানে প্রতিনিয়ত পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়। কিন্তু ভবিষ্যতে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সময়ের ব্যবধান বা কমিউনিকেশন ডিলে বাড়লে স্টেশনের নিজস্ব ডেটাবেস এবং প্রযুক্তির ওপরই ভরসা করতে হবে। এমনকি মহাকাশেই থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের (3D printing) মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
এই একই মঞ্চে কমার্শিয়াল স্পেস স্টেশন বা বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশনগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন ‘ভাস্ট স্পেস’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট টম শেলি। তিনি জানান, তাঁদের সংস্থা ‘হেভেন-১’ নামের একটি বাণিজ্যিক স্টেশন আগামী বছরই লঞ্চ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে গবেষণার কাজ আরও দ্রুত ও ফলপ্রসূ হবে। অন্যদিকে, ভারতের উচ্চাভিলাষী ‘গগনযান’ মিশন এবং পরবর্তীতে নিজস্ব ‘ভারতীয় অন্তরিক্ষ স্টেশন’ (BAS) গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রি জেনারেটিভ লাইফ-সাপোর্ট সিস্টেম ও ডকিং ক্যাপাবিলিটির মতো আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন অঙ্গদ প্রতাপ।