অমাবস্যায় তর্পণের সময় এই ছোট্ট জিনিসটি ব্যবহার করেন কি? না জানলে ব্যর্থ হতে পারে আপনার সমস্ত পূণ্য!

সনাতন হিন্দু ধর্মে অমাবস্যা তিথি এবং আসন্ন পিতৃপক্ষের সময় পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য তর্পণ, पिंडदान ও নানা ধরনের শ্রাদ্ধ কর্মের বিশেষ প্রচলন রয়েছে। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, এই সমস্ত পবিত্র আচার-অনুষ্ঠানের সময় হাতে কুশা ঘাস বা পবিত্র আংটি ধারণ করা কেন বাধ্যতামূলক? ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, कुश ছাড়া তর্পণ বা কোনো পিতৃদর্মই সম্পূর্ণ হয় না এবং তা নিষ্ফল বলে বিবেচিত হয়।

সাধারণ দেখতে এই ঘাসটির মধ্যে এমন কী বিশেষত্ব রয়েছে, যার অনুপস্থিতিতে দেবতা কিংবা পিতৃকুল কেউই সেই নিবেদন গ্রহণ করেন না? চলুন জেনে নেওয়া যাক এর পেছনের মূল কারণ।

২০২৬ সালে কবে পড়ছে অমাবস্যা ও পিতৃপক্ষ? চলতি বছরে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পালিত হবে ভাদ্রপদ অমাবস্যা। এই পবিত্র তিথিতে পূর্বপুরুষদের স্মরণে তর্পণ, দান এবং বিভিন্ন ধার্মিক কাজ করা হবে। এর ঠিক কিছুদিন বাদেই শুরু হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত পিতৃপক্ষ। ২০২৬ সালে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার ‘পূর্ণিমা শ্রাদ্ধ’-এর মধ্য দিয়ে পিতৃপক্ষের সূচনা হবে এবং এর পরের দিন অর্থাৎ ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার থেকে মূল প্রতিপদ শ্রাদ্ধের পর্ব শুরু হবে।

কুশ কেন এত পবিত্র? আমাদের বৈদিক সংস্কৃতি ও আচার-অনুষ্ঠানে কুশ ঘাসকে অত্যন্ত পবিত্র ও শুদ্ধ বলে মনে করা হয়। যেকোনো পূজা-পার্বণ, যজ্ঞ, হোম, সংকল্প এবং পিতৃ কর্মে এর ব্যবহার অপরিহার্য। ধর্মীয় मान्यता অনুযায়ী, কুশের মধ্যে যেকোনো পরিবেশকে পবিত্র রাখার এবং নেতিবাচক শক্তি বা প্রভাব দূর করার বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। সেই কারণেই পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে যখনই কোনো ব্যক্তি তর্পণ বা শ্রাদ্ধ করেন, তখন এই পবিত্র উপাদানটিকে অবশ্যম্ভাবী হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

তর্পণে কুশের গুরুত্ব কী? পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে করা তর্পণে জল অর্পণ করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ার সময় হাতের আঙুলে কুশ পরিধান করার দীর্ঘকালীন ঐতিহ্য রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, এই পবিত্র কুশের মাধ্যমেই তর্পণের জল নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পূর্বপুরুষদের কাছে পৌঁছায় এবং তাঁদের তৃপ্তি লাভ হয়। এটি মূলত আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি অগাধ সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর একটি আধ্যাত্মিক মাধ্যম।

অমাবস্যায় কুশের গুরুত্ব কেন বহুগুণ বেড়ে যায়? হিন্দু শাস্ত্রে অমাবস্যা তিথিকে পিতৃ কার্যের জন্য অত্যন্ত পুণ্যময় ও শ্রেষ্ঠ সময় হিসেবে ধরা হয়। এই বিশেষ দিনে মানুষ নিজেদের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে এবং তাঁদের আত্মার চিরশান্তির কামনায় দান-ধ্যান ও তর্পণের মতো কাজ সম্পন্ন করেন। এই কারণে সমস্ত পিতৃকর্মে সঠিক উপাদান ও নিয়ম বজায় রাখতে কুশের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তাই অমাবস্যার পবিত্র তিথিতে কুশের ব্যবহার ছাড়া কোনো তর্পণ বা শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করার কথা ভাবাই যায় না।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *