পুরনো হামলায় চরম ফ্যাসাদ! গ্রেফতারির শঙ্কায় তড়িঘড়ি হাইকোর্টে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ

পাঁচ বছর আগের একটি রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও বাড়ি ঘেরাওয়ের ঘটনা ঘিরে মারাত্মক আইনি জটিলতায় পড়লেন শ্রীরামপুরের বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় গ্রেফতারির আশঙ্কা তৈরি হতেই তড়িঘড়ি কলকাতা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি। শ্রীরামপুর থানায় নতুন করে অভিযোগ দায়েরের পর ইতিমধ্যেই পুলিশি তৎপরতা বেড়েছে এবং এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

হাইকোর্টে শুনানির বর্তমান পরিস্থিতি: বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে মামলাটির শুনানি সম্পন্ন হয়। তবে আদালত এ দিন চূড়ান্ত কোনো নির্দেশ জারি করেনি। মামলার পরবর্তী শুনানি রাখা হয়েছে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টেয়। তবে কল্যাণের আইনজীবীর দাবি, আপাতত তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে কোনোপ্রকার ‘কড়া পদক্ষেপ’ না নেওয়ার বিষয়ে আদালতের তরফে নির্দেশ বা আশ্বাস মিলছে, যা এই মুহূর্তে তৃণমূল সাংসদের বড় স্বস্তি।

মামলার উৎস ও পারিবারিক টানাপোড়েন: ঘটনাটি ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বরের। অভিযোগ, সে দিন সন্ধ্যায় শ্রীরামপুরে বিজেপির তৎকালীন নেতা কবীরশঙ্কর বসুর বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান প্রায় দুই শতাধিক তৃণমূল কর্মী-সমর্থক। বাড়ির সামনে পার্ক করা গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং রাত প্রায় ২টো পর্যন্ত তাঁকে অবরুদ্ধ বা ঘেরাও করে রাখা হয় বলে দাবি। কবীরশঙ্করের দাবি, সেই সময় পুলিশে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও তৎকালীন প্রশাসন কোনো সদর্থক ভূমিকা নেয়নি।

রাজনীতি ও ব্যক্তিজীবনের এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে এই আইনি লড়াই। অভিযোগকারী কবীরশঙ্কর বসু এক সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন জামাই ছিলেন। পরবর্তীতে পারিবারিক বিচ্ছেদ এবং ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের কারণে দু’জনের মধ্যে সম্পর্কের তিক্ততা চরম রূপ নেয়। শ্রীরামপুর লোকসভা ও বিধানসভা এলাকার রাজনীতিতে একাধিকবার মুখোমুখি লড়াইও হয়েছে তাঁদের।

নতুন করে সক্রিয় পুলিশ, গ্রেফতার ১: চলতি মাসের শুরুতে শ্রীরামপুর থানায় কবীরশঙ্কর বসু নতুন করে অভিযোগ জানান। সেই অভিযোগে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও নাম রয়েছে তৃণমূল কাউন্সিলর পাপ্পু সিংহ, রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিজয় সাগর মিশ্র, ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান খানসহ একাধিক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত নামিয়ে পুলিশ ইতিমধ্যে আকাশ পাত্র নামে এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টেয় হাইকোর্টে ফের এই মামলার শুনানি হবে। আদালত কী রায় দেয় এবং তদন্তের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, সে দিকে এখন গভীর নজর পুরো রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *