‘মানুষ নয়, যেন জানোয়ারের মতো থাকি!’ দিল্লির পিজি-র কঙ্কালসার চেহারা ছাল-চামড়া গুটিয়ে ফাঁস করল পড়ুয়ারা

দক্ষিণ দিল্লির অভিজাত সত্য নিকেতন এলাকায় একটি পাঁচতলা পিজি ভবন ভেঙে পড়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৬ জন। আর এই ঘটনার পর থেকেই দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে জাঁকিয়ে বসা ‘পিজি মাফিয়া’দের দৌরাত্ম্য ও পড়ুয়াদের অসহায়তার করুণ ছবি স্পষ্ট উঠে আসছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডিইউ) দক্ষিণ ক্যাম্পাসের কাছাকাছি হওয়ার কারণে সত্য নিকেতনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের ভিড় জমে। কিন্তু সেখানে শিক্ষার আলো খুঁজতে আসা পড়ুয়াদের দিন কাটে জানোয়ারের চেয়েও অধম অবস্থায়।

সাধারণ মানুষের বেতনের সমান ভাড়া, বদলে শুধুই প্রতারণা:

এলাকার একাধিক পড়ুয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই অঞ্চলে এক-একটি বেডের জন্য প্রতি মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত চড়া ভাড়া হাঁকান পিজি মালিকরা। সঙ্গে সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে নেওয়া হয় ৫০ থেকে ৬৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। অথচ এত টাকা খরচ করার পরও মেলে না এতটুকুও মানুষের মতো থাকার পরিবেশ।

মৈত্রেয়ী কলেজের ছাত্রী অদিতি ভার্মার কথায়, “এখানে ঘরের নামে দেওয়া হয় পায়রার খোপের মতো ছোট জায়গা। আলো-বাতাসের জন্য একটা জানালা পর্যন্ত থাকে না। শুধু একটি পাখা আর নিম্নমানের খাবার দিয়েই খালাস মালিকরা।”

একটি টয়লেট ব্যবহার করেন ১০ জন!

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজের ছাত্র তথা মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা অনিকেত জানান, সাউথ ক্যাম্পাসের বেশিরভাগ কলেজে হস্টেল সুবিধা না থাকায় হাজার হাজার পড়ুয়া পিজি নিতে বাধ্য হন। আর এই বাধ্যবাধকতাকেই ব্যবসার হাতিয়ার বানিয়েছেন বাড়িওয়ালা ও পিজি পরিচালকরা। তিনি চারজনের সঙ্গে একটি ঘর শেয়ার করে প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা ভাড়া দেন, কিন্তু মাত্র একটি টয়লেটই ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হয় ১০ জন পড়ুয়াকে।

অন্যদিকে, বিহার থেকে আসা ছাত্র বিট্টুর অভিযোগ, মাসে ৮,০০০ টাকা ঘরের ভাড়া আর ১,৫০০ টাকা বিদ্যুতের বিল দিয়েও জোটে সামান্য একটা আলো আর পাখা। জানালাহীন সেই স্যাঁতসেঁতে ঘরে প্রায় দমবন্ধ হয়ে দিন কাটাতে হয়।

জরাজীর্ণ বহুতল, যে কোনো মুহূর্তে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা:

অন্যতম আবাসিক ছাত্র পালকের মতে, “একক ঘর বলে কিছু হয় না। ডাবল, ট্রিপল বা চারজনের শেয়ারিংয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। ঘরের খাবার অযোগ্য এবং এসি ছাড়াই এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে হয়।”

ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সাফ বক্তব্য, নিরাপত্তার ঢোল পিটিয়ে ও ‘দক্ষিণ দিল্লির সেরা এলাকা’র তকমা দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে সাধারণ সরকারি বা বেসরকারি কর্মীর পুরো বেতনের সমান টাকা তুলে নেন মালিকরা। কিন্তু সত্য নিকেতনের বেশিরভাগ বহুতলই আদতে জরাজীর্ণ ও বেআইনিভাবে তৈরি। তাঁদের আশঙ্কা, যথাযথ নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা না নিলে অদূর ভবিষ্যতে এমন আরও বহুতল ধসে পড়ার বিভীষিকা প্রত্যক্ষ করতে হতে পারে রাজধানী শহরকে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *