যৌথ হোম লোন নিয়েছেন? সঙ্গীর কিছু হলে সম্পূর্ণ ঋণের দায় কার ঘাড়ে চাপবে জানেন কি?

বাড়ির আকাশছোঁয়া দামের বাজারে মধ্যবিত্তের ভরসা এখন যৌথ হোম লোন। স্বামী-স্ত্রী কিংবা বাবা-মা ও সন্তান একসঙ্গে আবেদন করে ব্যাংক থেকে তুলনামূলক বড় অঙ্কের ঋণ পেতে পারেন। দুই আয়ের সংমিশ্রণে এই লোন যেমন সহজে মেলে, তেমনই মাসিক কিস্তি বা ইএমআই পরিশোধের চাপও ভাগ হয়ে যায় দুই জলার মধ্যে। তবে এই স্বস্তির আড়ালেই লুকিয়ে থাকে এক বড় আর্থিক ঝুঁকি, যা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন অনেকেই।
ঋণের মেয়াদ চলাকালীন যদি ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে একজনের আকস্মিক মৃত্যু হয়, তবে কি ব্যাংক বাকি টাকা মকুব করে দেয়? নাকি সম্পূর্ণ ঋণের বোঝা এসে পড়ে বেঁচে থাকা মানুষটির ওপর? আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌথ হোম লোনের ক্ষেত্রে কোনো ঋণগ্রহীতার মৃত্যু হলে ব্যাংক বকেয়া ঋণের একটি কানাকড়িও মকুব করে না। নিয়ম অনুযায়ী, বেঁচে থাকা অপর সঙ্গীকে একাই বাকি ঋণের সমস্ত টাকা পরিশোধ করতে হবে। যদি সেই কিস্তি শোধ করা সম্ভব না হয়, তবে ব্যাংক ঋণখেলাপির অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নিতে পিছপা হয় না।
এই বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র চাবিকাঠি হলো হোম লোন প্রটেকশন বা টার্ম ইন্স্যুরেন্স। লোন নেওয়ার সময় বিমা করানো থাকলে, কোনো দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে বিমা সংস্থা বকেয়া ঋণের পুরো বা নির্দিষ্ট অংশ পরিশোধ করে দেয়। ফলে বেঁচে থাকা সদস্য বা পরিবার বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক সংকট থেকে রক্ষা পায়।
তাই কেবল কম সুদের হার বা কম ইএমআই দেখে যৌথ ঋণ নিতে ঝাঁপিয়ে পড়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। লোন নেওয়ার আগে বিমার কভারেজ কতখানি, পলিসির শর্তাবলি কী এবং মর্মান্তিক কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে কার দায় কতটুকু—এই সমস্ত দিক খুঁটিয়ে দেখে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।