বস মানেই কি শুধু কড়া শাসন? কর্মজীবনের শুরুতে যে অমূল্য শিক্ষাগুলো না জানলে ঠকবেন!

নতুন কোনও চাকরি শুরু করার সময় আমরা সাধারণত মনে করি, আমাদের মূল লক্ষ্য কেবল কাজটা শেখা। সেখানে থাকে নতুন কোম্পানি, নতুন সব দায়িত্ব ও লক্ষ্যমাত্রা এবং কাজের নির্দেশনার জন্য একজন বস। তবে কয়েক বছর পার হওয়ার পর আমরা বুঝতে পারি, একজন বস আমাদের কেবল কাজের কৌশলই শেখান না; বরং কঠিন সময়ে কীভাবে অবিচল ও দৃঢ় থাকতে হয়, তাও শেখান।

কোনও কোনও বস আমাদের কাজের সময়সীমা বা ‘ডেডলাইন’-এর গুরুত্ব বোঝান, আবার কেউ কেউ শেখান যে সব কাজেই ‘হ্যাঁ’ বলা জরুরি নয়। কেউ হয়তো কোনও ভুলের জন্য তিরস্কার করেন, আবার কেউ ভুল করার মতো স্বাধীনতাটুকুও দেন। প্রায়শই যখন এমন বসরা অন্য কোথাও চলে যান, তখনই আমরা সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি করতে পারি যে আমাদের আনুষ্ঠানিক কাজের গণ্ডি ছাড়িয়েও তাঁরা আমাদের কতটা সমৃদ্ধ করেছেন।

কাজের ঊর্ধ্বে ব্যক্তিকে বোঝা
একজন ভালো বস বোঝেন যে একজন কর্মী কেবলই কর্মী নন। তাঁদের নিজস্ব জীবন, সংগ্রাম, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও দুর্বলতা রয়েছে। এমন একজন বস বোঝার চেষ্টা করেন কেন কোনও দলের সদস্য ভালো কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। ম্যানেজার ও লিডারের মধ্যে পার্থক্য ঠিক এখানেই। ম্যানেজার মূলত লক্ষ্যের ওপর মনোযোগ দেন, আর লিডার সেই লক্ষ্য অর্জনকারী ব্যক্তির কথাও বিবেচনায় রাখেন।

একটি ভুল মানেই কেরিয়ারের সমাপ্তি নয়
কর্মজীবনের শুরুর দিকে ছোটখাটো ভুলও অনেক বড় মনে হতে পারে। যেমন— ভুল ইমেল পাঠানো, ভুল সংখ্যা লেখা বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারা। এমন মুহূর্তে বস যদি কেবল বকাঝকা করেন, তবে তা মনে ভয়ের সৃষ্টি করে। কিন্তু তিনি যদি ভুলটি বুঝিয়ে বলেন এবং ভবিষ্যতে তা না করার পরামর্শ দেন, তবে সেই ভুলটিই শেখার সুযোগ হয়ে ওঠে।

সবকিছুতেই ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে এমন নয়
কর্মক্ষেত্রে ‘না’ বলাটা বেশ কঠিন একটি কাজ। নতুন কর্মীরা প্রায়ই সব কাজের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান, এই ভেবে যে বেশি কাজ করলে বস খুশি হবেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় সব কাজের দায়িত্ব নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কিছু বস আমাদের শেখান কীভাবে কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করতে হয় এবং কোনটি আগে বা পরে করা উচিত।

সব কৃতিত্ব নিজের করে নেওয়া নয়
কিছু বস গ্রুপের সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করেন, আবার কেউ কেউ স্বীকার করেন যে দলই এই কাজটি করেছে। যখন কোনও বস মিটিংয়ে আপনার কাজের কথা উল্লেখ করেন, আপনার অর্জনের স্বীকৃতি দেন বা কোনও ধারণাকে সমর্থন জানান, তখন তিনি কেবল প্রশংসাই করেন না, বরং আত্মবিশ্বাসও বহুগুণ বাড়িয়ে তোলেন।

কেরিয়ারই জীবনের সব নয়
কিছু বস চান কর্মীরা সবসময় কাজ নিয়ে পড়ে থাক। কিন্তু বিচক্ষণ নেতারা বোঝেন যে অফিসের বাইরেও একটি জীবন আছে। তাঁরা কর্মীদের ছুটি নেওয়া, পরিবারের জন্য সময় বের করা এবং প্রয়োজনে বিরতি নেওয়ার বিষয়টিকে উৎসাহিত করেন।

কঠোরতা এবং দুর্ব্যবহার এক নয়
একজন ভালো বস সবসময়ই যে খুব নমনীয় বা সহজ-সরল হবেন, তা কিন্তু নয়। তাঁরা হয়তো কাজের সমালোচনা করতে পারেন বা ভুলগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। তবে মূল পার্থক্য হল, তাঁদের কঠোরতার উদ্দেশ্য থাকে কাজের মান উন্নত করা, আপনাকে ছোট করা নয়। প্রথমোক্ত বিষয়টি কাজের মান বাড়াতে সাহায্য করে, আর শেষোক্ত বিষয়টি আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *