একইসঙ্গে রাজ্যে ত্রিমুখী সংকট! মালদহের ভাঙন থেকে ডিভিসির জল ছাড়া ও রেললাইন ধস নিয়ে কী বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর?

রাজ্যের সামনে একসঙ্গে এসে হাজির হয়েছে তিনটি বড় প্রাকৃতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। একদিকে মালদহের মানিকচক ও রতুয়া এলাকায় ভয়াবহ নদী ভাঙন, অন্যদিকে ডিভিসির (DVC) জল ছাড়ার জেরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি এবং পাশাপাশি নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে রেললাইন বসে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়া—এই সমস্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই ত্রিমুখী সংকটের কথা তুলে ধরে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন ব্যবস্থার কথা জানান তিনি।

মালদহের বন্যা ও ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মানিকচক ও রতুয়া এলাকায় প্রতি বছরই নদী ভাঙন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, যার একটি স্থায়ী সমাধান খোঁজা অত্যন্ত জরুরি। এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করতে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বিহার ও ঝাড়খণ্ড সরকারের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের পাশাপাশি কানপুর আইআইটি-র বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করেছে। পাশাপাশি, জেলাশাসকের নেতৃত্বে দুর্গতদের জন্য ত্রাণ শিবির তৈরি এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর মতো তাৎক্ষণিক পদক্ষেপগুলিও সমানভাবে জারি রয়েছে।

অন্যদিকে, বাঁকুড়া, হুগলি, হাওড়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত নিম্ন দামোদর অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভারী বৃষ্টি হলেও এখনও পর্যন্ত ওই অঞ্চলে কোনো বাঁধ ভাঙেনি এবং স্লুইস গেট ও ড্যামগুলি নিয়ম মেনেই কাজ করছে। ডিভিসির জল ছাড়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, জলাধারগুলির জল ধারণক্ষমতার বেশি হয়ে গেলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই জল ছাড়তে হয়। গত দু’দিনে এক লক্ষ কিউসেকের বেশি জল ছাড়ার ফলে হুগলি গ্রামীণ এলাকা, বিশেষ করে আরামবাগ মহকুমার ৭টি ব্লক এবং ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ইতিমধ্যেই পর্যাপ্ত ত্রাণ শিবির চালু করা হয়েছে এবং হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর ও আমতা এলাকার পরিস্থিতিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তৃতীয়ত, মালদহের নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে রেললাইন বসে যাওয়ার জেরে ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় লাইন মেরামতির কাজ চালালেও মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মধ্যে আটকে পড়া যাত্রীদের সুবিধার জন্য প্রথম দিকে ৮টি বাস নামানো হলেও বর্তমানে মোট ২০টি অতিরিক্ত বাস বিনামূল্যে পরিষেবা দিচ্ছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাত্রীদের মধ্যে খাবার ও পানীয় জল বিতরণ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও আবহাওয়া দফতরের হলুদ সতর্কতার মাঝে সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় প্রশাসন সর্বতোভাবে তৎপর রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *