খাবারে বিষাক্ত রং আর নর্দমার ওপরেই বিরিয়ানি রান্না! রাজ্যে খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহে হানা দিয়ে যা দেখলেন আধিকারিকরা

রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বিশেষ খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহ। সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর এবং নিরাপদ খাবার সুনিশ্চিত করতে পথে নেমে কঠোর পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযান চলবে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আর এই অভিযানের প্রথম তিন দিনের মাথাতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক সব ছবি।

যত্রতত্র খাদ্যে ভেজালের রমরমা রুখতে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। প্রথম তিন দিনেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে মোট ১৭টি হোটেল এবং রেস্তোরাঁ সিল করে দেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে এই আপস কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, রাজ্যজুড়ে এই নজরদারি ও অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। খাদ্যের নমুনা তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষার জন্য বিশেষ মোবাইল ভ্যান বা ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার ব্যবহার করা হচ্ছে, পাশাপাশি আধুনিক ল্যাবরেটরিতেও নমুনা পাঠানো হচ্ছে। বিগত ৩ দিনে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৭০০ কেজির বেশি ক্ষতিকারক কাঁচামাল ও বাসি খাবার নষ্ট করা হয়েছে।

খাদ্য সুরক্ষা দফতরের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১ থেকে ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যজুড়ে মোট ২,৩৩৭টি খাবারের দোকানে পরিদর্শন চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ২০৫৬টি জায়গাতেই বড়সড় অনিয়ম ধরা পড়েছে। পরিস্থিতি শোধরাতে ২,০৩৯টি ক্ষেত্রে সংশোধনী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গুণমান যাচাইয়ের জন্য সংগৃহীত হয়েছে ১,২৭৭টি নমুনা। স্বাস্থ্যবিধি না-মানায় ১৬টি দোকানে খাবার বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, বাতিল বা সাসপেন্ড করা হয়েছে ৫টি লাইসেন্স এবং ১৭ জন বিক্রেতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।

তদন্তে নেমে কোথাও দেখা গেছে নর্দমার ঠিক ওপরে চলছে রান্না, আবার কোথাও মশলা বা হলুদ গুঁড়োতে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত রাসায়নিক। মালদার একটি নামী বিরিয়ানির দোকানে হানা দিয়ে আধিকারিকরা দেখেন, খোলা ড্রেনের ওপর চলছে হায়দরাবাদি বিরিয়ানি রান্না, আর সেই দোকানের বৈধ এফএসএসএআই (FSSAI) লাইসেন্সও ছিল না। মালদার দুটি পানীয় জল প্রস্তুতকারক কারখানা এবং একটি কেক তৈরির কারখানায় নোংরা পরিবেশ ও লাইসেন্স না থাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের একটি দোকানে হলুদ গুঁড়োর মধ্যে মেটানিল ইয়েলো নামক বিষাক্ত রং মেশানোর হাতেনাতে প্রমাণ মিলেছে। হুগলি, নদিয়া ও পশ্চিম বর্ধমানের বিভিন্ন হোটেল ও সংস্থাতেও অনিয়মের অভিযোগে জরিমানা ও সিলগালা করার মতো কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *