রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়ার আগে সাবধান! নামী দামি ৫টি রেস্তোরাঁ ও জলের কারখানার লাইসেন্স বাতিল করল স্বাস্থ্য দফতর

রাজ্যের পাতে বিষ তোলার কারবার বন্ধ করতে এবার কোমর বেঁধে আসরে নামল খাদ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য দফতর। শহরের নামী রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ভোজনালয়—সর্বত্রই চলছে মেগা অভিযান। আর এই তল্লাশিতেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কোথাও মিলছে পচা মাংস, কোথাও আবার দেদার বিকোচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল সামগ্রী। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি রুখতে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। ইতিমধ্যেই একাধিক নামী রেস্তোরাঁ এবং ফুড প্রসেসিং ইউনিটের লাইসেন্স কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, রাজ্যের মোট ১৭৩০টি ফুড সেন্টারে আকস্মিক অভিযান চালানো হয়েছে। যার মধ্যে চোখ কপালে তোলার মতো তথ্য হলো, অন্তত ১৫২৫টি জায়গাতেই কমবেশি অনিয়ম ধরা পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অসঙ্গতি মিলেছে ডায়মন্ডহারবার এলাকায়। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করার অপরাধে ৫টি অত্যন্ত জনপ্রিয় রেস্তোরাঁর লাইসেন্স হয় সাসপেন্ড করা হয়েছে, নতুবা সরাসরি বাতিল করা হয়েছে।
এই কালো তালিকার শীর্ষে রয়েছে মধ্যমগ্রামের ‘রঙ দে বসন্তি ধাবা’ এবং ‘জাস্ট বাঙালি’, সেক্টর ফাইভের আরডিবি মলের ‘অ্যাবসিলিউট বারবিকিউ নেশন’, সোদপুরের ‘বারবিকিউ নেশন’ এবং সেক্টর থ্রি-র ‘চৌরাসিয়া চাটস’। পাশাপাশি, ১৩টি ফুড প্রসেসিং ইউনিটও সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৬টি ভেজাল জলের কারখানা। কোচবিহার থেকে শুরু করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা কিংবা বর্ধমান—প্রায় প্রতিটি জেলা থেকেই বেনিয়মের পাহাড় প্রমাণ অভিযোগ জমা পড়েছে।
তবে সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির কথা মাথায় রেখে এখনই সব দোকান পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, যাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম মিলেছে, তাঁদের প্রয়োজনীয় ত্রুটি শুধরে নেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ব্যবসা সকলেরই করার অধিকার রয়েছে এবং অনেকেরই জীবন-জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে ছিনিমিনি খেললে তা আর বরদাস্ত করা হবে না বলেই সাফ বার্তা দিয়েছে প্রশাসন।