‘সংবেদনশীল হয়ে এমন পোস্ট কীভাবে?’ প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ছবি পোস্ট করে ফেঁসে গেলেন শ্রীলেখা?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিকৃত ছবি সংবলিত একটি পোস্টার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার জেরে আইনি বিপাকে পড়া অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রকে বড় স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত অভিনেত্রীকে গ্রেফতারি থেকে রক্ষাকবচ দিয়েছে আদালত। তবে একই সঙ্গে মামলার শুনানিতে অভিনেত্রীর ভূমিকা নিয়ে অত্যন্ত কড়া পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

ছাত্র আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি অত্যন্ত আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ পোস্টার ফেসবুকে প্রকাশ্যে তুলে ধরেছিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। সেই পোস্টার ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক দানা বাঁধে। এর পরেই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে নির্দিষ্ট ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়। আইনি এই জালে আটকা পড়ে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন শ্রীলেখা।

বুধবার মামলার শুনানিতে আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় অভিনেত্রীকে। বিচারপতির সরাসরি প্রশ্ন ছিল, “কেন এমন পোস্ট করেন মামলাকারী? এটা কোনও কার্টুন হতে পারে না। এটা সত্যিই লজ্জাজনক পোস্টার। একজন বিচক্ষণ নাগরিক হিসেবে এমন পোস্ট ফেসবুকে করেন কীভাবে?” বিচারপতি আরও বলেন, “তিনি একজন খ্যাতনামা অভিনেত্রী, তাই ধরে নেওয়া হবে তিনি সমাজ সচেতন ও সংবেদনশীল। তারপরেও তিনি কেন এমন পোস্ট করলেন?”

অন্যদিকে, আদালতে শ্রীলেখার পক্ষে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি সওয়াল করে জানান, এই ধরনের পোস্ট হয়তো কষ্টদায়ক বা লজ্জাজনক হতে পারে, কিন্তু তা কোনোভাবেই কোনো ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে না।

উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত আগামী ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রীলেখা মিত্রকে রক্ষাকবচ মঞ্জুর করেছে। তবে একই সঙ্গে তাঁকে তদন্তকারী পুলিশের মুখোমুখি হয়ে পূর্ণ সহযোগিতা করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। পাশাপাশি, এই মামলায় পুলিশ কী কী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তার একটি বিস্তারিত রিপোর্টও আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Samrat Das
  • Samrat Das

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *