‘অন্য ধর্মে ছাড় মিললে গণেশে কেন নয়?’ লাউডস্পিকার বিতর্ক ও পুনে কাণ্ডে তুমুল রাজনৈতিক দাঙ্গার আবহ!

মহারাষ্ট্রজুড়ে এখন সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে আসন্ন গণেশোৎসব এবং ডিজে বা লাউডস্পিকার ব্যবহারের ছাড়পত্র। মুম্বই থেকে পুনে—ধর্মীয় এই উৎসবের আবহকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরকে আক্রমণ করতে শুরু করেছে। একদিকে যেমন মুম্বইয়ে নির্দিষ্ট কিছু দিনে মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে তা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে এআইএমআইএম। শিবসেনার শিন্দে গোষ্ঠী এর কড়া জবাব দিয়ে পাল্টা রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছে। পুনেতে আবার ডিজে-র বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এক কর্মী ক্যামেরার সামনে হামলার শিকার হওয়ায় এই বিতর্ক অন্য মাত্রা নিয়েছে।
মুম্বইয়ে কী বলছে প্রশাসন? এই বছর মুম্বইয়ের গণেশ মণ্ডপগুলোকে চারটি বিশেষ বিসর্জনের দিনে—১৫, ১৮, ১৯ এবং ২৫ সেপ্টেম্বর—সকাল ৬টা থেকে মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত লাউডস্পিকার ও অ্যামপ্লিফায়ার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এটি শব্দদূষণ বিধিমালা এবং আদালতের নির্দেশ মেনেই কার্যকর হবে। অন্যদিকে, মুম্বইয়ের কিছু গণেশ মণ্ডলের দাবি, এই ছাড় কেবল চার দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও বাড়ানো উচিত।
রাজনৈতিক তরজা ও মেরুকরণ শব্দদূষণের বিষয়টি যখন সামনে আসছে, তখন এআইএমআইএম প্রশ্ন তুলেছে যে স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে গভীর রাত পর্যন্ত ডিজে বাজানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে কেন? এর জবাবে শিন্দে গোষ্ঠীর মন্ত্রী সঞ্জয় শিরসাত পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবে যদি রাতে লাউডস্পিকার ব্যবহারের ছাড় মেলে, তবে গণেশোৎসবের বেলায় আপত্তি কোথায়? বিজেপি নেতা রাম কদমও এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন যে, এই ধরনের বিরোধিতার মাধ্যমে উৎসবের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। সব মিলিয়ে, শব্দের মাত্রা আর ধর্মীয় রাজনীতির এই দ্বন্দ্বে মহারাষ্ট্রের পারদ চড়ছে।