হরমুজ এখন আমাদের দখলে! নাম বদলে নিজের নামে করার কথা বলে মুহূর্তে পল্টি নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?

হরমুজ প্রণালীর নাম বদলে নিজের নামে করার এক অবিশ্বাস্য প্রস্তাব দিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ফের আলোড়ন সৃষ্টি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহণের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে—এই যুক্তি দেখিয়ে তিনি প্রণালীটির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ রাখার কথা বলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সংক্রান্ত একটি পোস্ট শেয়ার করার পরেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয় জোর চর্চা। যদিও পরবর্তীতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ধারণাকে স্রেফ মুখের কথা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

বুধবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে ট্রাম্প লেখেন, যেহেতু এখন এই অঞ্চল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তাই হরমুজ প্রণালীর নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ রাখা যায় কি না, তা ভেবে দেখা উচিত। এই নামবদল অত্যন্ত আকর্ষণীয় হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে পরবর্তীতে সাংবাদিকরা এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে ট্রাম্প দাবি করেন, বিষয়টি তিনি আক্ষরিক অর্থে বলেননি, স্রেফ রসিকতা বা এমনিই প্রস্তাবটি করেছিলেন।

এদিকে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে তীব্র ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। হোয়াইট হাউজে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোরালো দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী এখন সম্পূর্ণভাবে মার্কিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাঁর দাবি, প্রণালীর আশপাশে ইরান যে সমস্ত সামরিক সরঞ্জাম, রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পুনর্নির্মাণ করছিল, মার্কিন বাহিনী সেগুলোকে সফলভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। এমনকি মাইন ফেলার মতো বিশেষ রকেট তৈরির চেষ্টা চললেও মার্কিন হানায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে বলে জানান তিনি। নতুন করে কোনো আগ্রাসন দেখা গেলে ইরানের ওপর আরও ভয়াবহ হামলা চালানো হবে বলেও তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।

অন্যদিকে, এই সংঘাতে পরিস্থিতি আরও রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে যে তারা খবরটি খতিয়ে দেখছে এবং তাদের বাহিনী কখনই সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলা চালায় না।

বিশ্বের মোট তেল পরিবহণের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে যাতায়াত করে, সেই হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইরানের এই নতুন সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে ইরান ও ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। এখন দেখার, ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই স্নায়ুযুদ্ধ আগামী দিনে কোন মোড় নেয়।

Samrat Das
  • Samrat Das

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *