স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে ভাষা বিকৃতির নামে তোষণ! আগের দুই সরকারকে একহাত নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার গোলপার্কের বিবেকানন্দ বিদ্যাবিকাশ পরিষদের বার্ষিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, শিক্ষায় জাতীয়তাবাদ এবং সংস্কার ফেরানোই তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে বাম ও তৃণমূল জমানার শিক্ষানীতির কঠোর সমালোচনা করে একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন তিনি। অনুষ্ঠানে মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকীতে তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান করার পর শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের সামনে একাধিক নয়া নির্দেশিকা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

ভাষার বিকৃতি ও সিলেবাস নিয়ে আগের সরকারগুলোর বিরুদ্ধে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে সুকৌশলে শিশুদের পাঠ্যবইয়ে ভাষা বদলানো হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, বিদ্যাসাগর বা স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শের কথা না ভেবে ছোট ছোট কচিকাঁচাদের মনে অন্য ভাবধারা ঢোকানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পাঠ্যবই থেকে ক্ষুদিরাম বসু বা মাতঙ্গিনী হাজরার মতো মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নাম সরিয়ে দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি। রাজ্যে ইতিমধ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি পুরোপুরি কার্যকর করা হয়েছে বলে এদিন স্পষ্ট করে দেন তিনি।

স্কুলের শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের পাঠ নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। প্রার্থনা চলাকালীন সমস্ত স্কুলছাত্র-ছাত্রীর জন্য পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে বা গানে অংশ না নিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরকারি সাহায্য সরাসরি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষা সচিবকে ভিডিও পাঠিয়ে শিক্ষার্থীদের ঠোঁট নাড়ানো নিশ্চিত করার তদারকি করতেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া হিন্দু শিক্ষার্থীদের চন্দন টিকা পরার ওপর বাধা দেওয়ার মতো মানসিকতা অবিলম্বে বদলানোর কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।

শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফেরাতে এনসিসি এবং ব্রতচারী চালুর কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে রাজ্যে আরও সৈনিক স্কুল এবং প্রতিটি স্কুল-কলেজে এনসিসি চালুর আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে দেশবিরোধী স্লোগান এবং নির্দিষ্ট কিছু পোস্টার বা দেওয়াল লিখন নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনের পক্ষে স্লোগান না দিয়ে সাহস থাকলে পাক অধিকৃত কাশ্মীর বা পিওকে মুক্ত করার স্লোগান তুলুন, তবেই সমর্থন মিলবে।

মাদ্রাসা থেকে উচ্চশিক্ষা—সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এক ছাতার তলায় আনার কথা বলার পাশাপাশি পড়ুয়াদের জন্য সাত্ত্বিক আহার নিশ্চিত করতে কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। আগামী এক বছরের মধ্যে রাজ্যে বিদ্যাভারতীর স্কুলের সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছেন তিনি। পুঁথিগত বিদ্যার বেড়াজাল ভেঙে আগামী প্রজন্মকে প্রকৃত মানুষ করে তোলার এই লড়াইয়ে সমাজের সব স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Samrat Das
  • Samrat Das

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *