সীমান্ত পারের গুপ্তচরবৃত্তি নাকি অন্য কিছু? পায়ে পাকিস্তানি মোবাইল নম্বর বাঁধা কবুতর ঘিরে বড় রহস্য

জম্মু ও কাশ্মীরের আরনিয়া সেক্টরে দুটি সন্দেহজনক কবুতর উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দার ছাদে এসে বসা ওই পাখিগুলোর একটির পায়ে একটি আংটি বা রিং দেখা যায়, যেটিতে স্পষ্ট করে দুটি পাকিস্তানি মোবাইল নম্বর খোদাই করা রয়েছে। এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসেছে দেশের সমস্ত প্রধান নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, আরনিয়ার মোলু চাক এলাকার এক বাসিন্দা তাঁর বাড়ির ছাদে দুটি অচেনা কবুতর দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে খবর দেন। এরপরই পাখিগুলোকে হেফাজতে নিয়ে শুরু হয় তল্লাশি। তদন্তে নেমে আধিকারিকরা দেখতে পান, কবুতরটির পায়ে যে আংটিটি রয়েছে, তাতে ০৩২৭-৫৬১৩২৫৭ এবং ০৩২৫-৪২২৬৩১২—এই দুটি পাকিস্তানি মোবাইল নম্বর লেখা রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নম্বর দুটি পাকিস্তানের জ্যাজ বা মোবলিঙ্ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত।

সীমান্তবর্তী এই সংবেদনশীল এলাকায় পাখিটিকে ব্যবহার করে আন্তঃসীমান্ত বার্তা আদান-প্রদান, মাদক পাচার কিংবা গুপ্তচরবৃত্তির কোনো নতুন চক্রান্ত চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রসঙ্গত, জম্মু ও কাশ্মীর বা পাঞ্জাব সীমান্তে পাকিস্তানি নম্বর বা রিং পরানো কবুতর উদ্ধারের ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২০২০ সালে হিরানগরের মানিয়ারি গ্রামে এবং ২০১৬ ও ২০১৮ সালে আরএস পুরা ও আখুনুর সেক্টরেও একই ধরনের সন্দেহজনক পাখি উদ্ধার করা হয়েছিল। কাঠুয়া ও আরনিয়া সেক্টরের ঘন নলখাগড়া ও জঙ্গলময় সীমান্ত এলাকা অতীতেও অনুপ্রবেশকারীদের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে প্রতিটি দিক খুঁটিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *