২০২৭ সালে আসছে নতুন রূপের টাটা নেক্সন! বাজারে ঝড় তুলতে কী কী চমক থাকছে গাড়িটিতে?

টাটা নেক্সন অনুরাগীদের জন্য আগামী দিনগুলো দারুণ রোমাঞ্চকর হতে চলেছে। বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে আসার আগেই টাটার পরবর্তী প্রজন্মের নেক্সন এখন প্রাথমিক পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটি অভ্যন্তরীণভাবে ‘গরুড়’ কোডনামে এই গাড়িটি তৈরি করছে, যা ২০২৭ সালে বাজারে লঞ্চ হতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন এই মডেলে শুধু বাহ্যিক চেহারাই বদলাচ্ছে না, বরং এর প্ল্যাটফর্ম, আধুনিক ফিচার এবং প্রযুক্তিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাবে। তবে গাড়ির ইঞ্জিনে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

সম্পূর্ণ নতুন প্ল্যাটফর্ম ও নজরকাড়া ডিজাইন

আসন্ন নেক্সনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি আসতে চলেছে এর কাঠামোগত জায়গায়। ২০২৭ সালের নেক্সন তৈরি হবে নতুন ‘অ্যাটলাস’ (অ্যাডাপ্টিভ টেক-ফরোয়ার্ড লাইফস্টাইল আর্কিটেকচার) প্ল্যাটফর্মে, যা ইতিমধ্যে টাটা কার্ভ কুপে এসইউভিতে ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মটি বিভিন্ন বডি ডিজাইন এবং একাধিক ধরনের পাওয়ারট্রেন সমর্থন করতে সক্ষম। পাশাপাশি ক্লাউড কানেক্টিভিটি এবং অ্যাডভান্সড ইলেকট্রিক আর্কিটেকচারের মতো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি মাথায় রেখেই এটি ডিজাইন করা হয়েছে। স্পাই ফোটো অনুযায়ী, গাড়িটির ঋজু ও মজবুত এসইউভি কাঠামো বজায় থাকলেও সামনের ও পেছনের ডিজাইনে বড় পরিবর্তন আসবে। নতুন গ্রিল, রি-ডিজাইন হেডল্যাম্প, নতুন অ্যালয় হুইল এবং আধুনিক এলইডি টেইলল্যাম্প গাড়িটিকে বর্তমান মডেল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করবে।

কেবিন ও আধুনিক ফিচারের সমাহার

নতুন নেক্সনের কেবিন আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রিমিয়াম ও আধুনিক হবে। চালকের সুবিধার জন্য থাকছে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ডিসপ্লে এবং মাঝখানে একটি বড় টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম। এছাড়া প্যানোরামিক সানরুফ, ভেন্টিলেটেড ফ্রন্ট সিট, অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল এবং ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরার মতো আকর্ষণীয় ফিচার থাকতে পারে। নিরাপত্তার দিক থেকে গাড়িটিতে লেভেল ২ এডিএএস (ADAS) প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স

গাড়ির ডিজাইন ও ফিচারে ব্যাপক পরিবর্তন এলেও কোম্পানি সম্ভবত এর পুরোনো ও নির্ভরযোগ্য ইঞ্জিন সেটআপটিই বজায় রাখবে। এতে বর্তমান ১.২-লিটার টার্বো পেট্রোল এবং ১.৫-লিটার টার্বো ডিজেল ইঞ্জিন বহাল থাকতে পারে। ম্যানুয়াল এবং অটোমেটিক—উভয় গিয়ারবক্সের অপশনই মিলবে। পাশাপাশি, নেক্সন eCNG ভার্সনে সিএনজি ট্যাঙ্কটি গাড়ির নিচে রাখা হবে এবং এর ARAI-প্রত্যয়িত মাইলেজ প্রতি কেজিতে ২৪ কিমি পর্যন্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

দাম ও বাজার প্রতিযোগিতা

বর্তমানে টাটা নেক্সনের দাম ৭.৪০ লক্ষ থেকে ১৪.৪০ লক্ষ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে। নতুন প্রজন্মের প্ল্যাটফর্ম ও উন্নত ফিচারের কারণে ২০২৭ সালের মডেলটির দাম সামান্য বাড়তে পারে। বাজারে আসার পর এই গাড়িটি মারুতি সুজুকি ব্রেজা, হুন্ডাই ভেন্যু, কিয়া সনেট, মাহিন্দ্রা XUV 3XO এবং স্কোডা কাইলাকের মতো জনপ্রিয় সাব-কমপ্যাক্ট এসইউভিগুলির সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতায় নামবে। টাটা আনুষ্ঠানিকভাবে সমস্ত বিবরণ প্রকাশ করলেই এই গাড়ি নিয়ে ছবি আরও স্পষ্ট হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *