‘উত্তম কুমার আমার কাছে আজও জীবিত!’ মহানায়ককে নিয়ে কোন আবেগঘন মন্তব্য করলেন মাধবী মুখোপাধ্যায়?

বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র—উত্তম কুমার এবং মাধবী মুখোপাধ্যায়। মহানায়ক উত্তম কুমারের শতবর্ষে দাঁড়িয়ে তাঁর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়। ছোটবেলা থেকেই উত্তম-সুচিত্রার ছবি দেখে বড় হওয়া মাধবী দেবীর কাছে মহানায়ক কেবল একজন রূপোলি পর্দার তারকা নন, বরং এক বিশাল হৃদয়ের মানুষ। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে উত্তম কুমারকে নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও অজানা কথা ভাগ করে নিয়েছেন এই প্রবীণ অভিনেত্রী।
শিশির ভাদুড়ি থেকে ছবি বিশ্বাস, তবুও কেন আলাদা উত্তম?
মাত্র চার-পাঁচ বছর বয়স থেকে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মাধবী মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি কাছ থেকে দেখেছেন বাংলা থিয়েটার ও চলচ্চিত্রের বহু দিকপাল তারকাকে। শিশির ভাদুড়ি, ছবি বিশ্বাস, কমল মিত্রের মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। কিন্তু এত গুণী শিল্পীর ভিড়েও তিনি উত্তম কুমারকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেখেন।
মাধবী দেবীর মতে, উত্তম কুমারের অভিনয়ের জাদুকরী আকর্ষণ তো ছিলই, পাশাপাশি তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ ছিল মানুষের প্রতি তাঁর দরদ ও উদারতা। একজন শীর্ষস্থানীয় ও সফল তারকা হয়েও তিনি সর্বদা অন্যদের কথা ভাবতেন। বিশেষ করে সিনেমার টেকনিশিয়ান বা কলাকুশলীদের কোনো অসুবিধা হলে তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়াতেন। শুধু নিজের কেরিয়ার বা খ্যাতির কথা না ভেবে, তিনি গোটা শিল্পীসমাজের কল্যাণের কথা ভাবতেন।
‘শিল্পী সংসদ’ ও মহানায়কের দূরদর্শিতা
শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এবং তাঁদের প্রয়োজনের সময় সাহায্য করতে উত্তম কুমার যে ‘শিল্পী সংসদ’ সংগঠন তৈরি করে গিয়েছিলেন, তাকে তাঁর দূরদর্শিতার বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন মাধবী মুখোপাধ্যায়। এর আগে ছবি বিশ্বাস বা জহর গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো প্রবাদপ্রতিম শিল্পীরাও এমন কোনো সংগঠন তৈরির কথা ভেবেছিলেন, কিন্তু নানা কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। একমাত্র উত্তম কুমারই সেই কঠিন কাজটি সফলভাবে করে দেখিয়েছিলেন। আজও সেই ‘শিল্পী সংসদ’ রয়েছে এবং শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর সেই মহৎ ভাবনাটি বেঁচে রয়েছে।
আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক মহানায়ক
উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তার কথা বলতে গিয়ে মাধবী দেবী জানান, মৃত্যুর এত বছর পরেও তাঁর ছবির ক্ষেত্রে দর্শকদের উন্মাদনায় কোনো ভাটা পড়েনি। আজও তাঁর ছবি দেখতে মানুষ প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করেন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁকে নতুন করে আবিষ্কার করে।
অভিনেত্রীর কথায়, “তাই উত্তম কুমার আপনাদের কাছে মৃত হলেও, আমার কাছে তিনি জীবিত। তাঁর অভিনয়ে, তাঁর কাজের মধ্যে, মানুষের প্রতি তাঁর ভালবাসায় এবং শিল্পীদের জন্য রেখে যাওয়া তাঁর দায়িত্ববোধে— উত্তম কুমার আজও আমাদের মধ্যে বেঁচে আছেন।”