ধর্ষণের পর খুন নাকি পরিকল্পিত ছক? রাস্তার ধারের মাঠ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য

উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর জেলার ঝাঘান থানা এলাকার গহিরা গ্রামে (ভূমিহার টোলা) বৃহস্পতিবার সকালে এক রোমহর্ষক ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া স্থানীয় গ্রামবাসীরা রাস্তার পাশের একটি ফাঁকা মাঠে ৩৫ বছর বয়সি এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার নগ্ন দেহ পড়ে থাকতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন। প্রাথমিক অনুমান, ওই মহিলাকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করার পর পরিচয় গোপন ও প্রমাণ লোপাট করার উদ্দেশ্যে তাঁর দেহটি ওই মাঠে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় পুলিশ এবং ফরেনসিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মৃতার গলায় গভীর আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। ঘটনার প্রাথমিক লক্ষণ দেখে তদন্তকারীদের সন্দেহ, মহিলাটিকে প্রথমে পাশবিক নির্যাতন বা ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। অপরাধীরা অন্য কোথাও এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে গাহিরা গ্রামের রাস্তার ধারের মাঠে লাশটি ফেলে গেছে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। এছাড়া অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলার উদ্দেশ্যেই তাঁর পোশাক খুলে ফেলা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

মৃতদেহ উদ্ধারস্থল থেকে কিছুটা দূরেই মহিলার একটি মোবাইল ফোন, পাজামা এবং চপ্পল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ মোবাইল ফোনটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নজরদারি দলের কাছে হস্তান্তর করেছে। কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) এবং মোবাইল ডেটা বিশ্লেষণ করে মৃতার আসল পরিচয় এবং মৃত্যুর আগে তিনি কার কার সংস্পর্শে এসেছিলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে।

মৃতদেহ শনাক্ত করাই এখন পুলিশের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ সংক্রান্ত কোনো তথ্য মিলছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে স্থানীয় পুলিশ মহিলাটির শারীরিক বিবরণ ও ছবি গোরখপুরের সমস্ত থানা ছাড়াও দেওরিয়া, কুশীনগর, মহারাজগঞ্জ এবং সন্ত কবির নগরের মতো পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর পুলিশ দপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছে।

চৌরি-চৌরার সার্কেল অফিসার (সিও) কুন্দন কুমার সিং জানান, বৃহস্পতিবার সকালে গাহিরা গ্রামের মাঠে এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ও ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে যায়। সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মৃতার কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি, তবে তাঁকে শনাক্ত করার প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ এবং ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে স্পষ্ট হবে। সেই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *