‘ফ্লপ মাস্টার’ থেকে সোজা মহানায়ক! উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকীতে আবেগঘন বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদীর

ঠিক একশো বছর আগের এই দিনে (৩ সেপ্টেম্বর, ১৯২৬) বাংলার আকাশে উদিত হয়েছিল এক ধ্রুবতারা। যাঁর চওড়া হাসি আর রূপোলি পর্দার জাদুতে আজও বুঁদ হয়ে রয়েছে আপামর বাঙালি। তিনি উত্তম কুমার—বাংলার চিরকালের মহানায়ক, ফ্রেমে যাঁর উপস্থিতি মানেই আজও দর্শকের চোখ আটকে যাওয়া। বাঙালির সেই আবেগের ও ভালোবাসার মহানায়কের আজ জন্মশতবর্ষ। আর এই বিশেষ ও ঐতিহাসিক দিনে মহানায়ককে গভীর শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
কয়েক দিন আগেই তাঁর জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এ উত্তম কুমারকে নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই স্মৃতিচারণই ফের উসকে দিয়ে একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা শেয়ার করেছেন তিনি।
‘মন কি বাত’-এ মহানায়ক স্মরণ
রবিবার ‘মন কি বাত’-এর ১৩৭তম পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্মরণ করেন তাঁর কলকাতা সফরের একটি বিশেষ মুহূর্ত। তিনি জানান, অতীতে এক্সে সময় কলকাতায় রোড শো করার সময় তিনি যখন মহানায়কের বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন এক অনুরাগী তাঁকে উপহার হিসেবে উত্তম কুমারের একটি ছবি দিয়েছিলেন। সেই স্মৃতির কথা আজও তাঁর মনে তাজা রয়েছে।
উত্তম কুমারের অভিনয় প্রতিভার প্রশংসা করে মোদী বলেন, “তিনি মানুষের হৃদয়ের গভীরে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাঁর চরিত্রের জীবন্ত প্রকাশ, পর্দায় স্বাভাবিক উপস্থিতি এবং ব্যক্তিত্ব তাঁকে ভারতীয় সিনেমার অমর তারকা করে তুলেছে।” বাংলায় একটি বিশেষ বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মহানায়ক উত্তমকুমার চিরদিন মানুষের হৃদয়ে রাজ করবেন।”
‘নায়ক’ থেকে লড়াইয়ের জীবন—বার্তার আলোয় মহানায়ক
উত্তম কুমারের দীর্ঘ অভিনয়জীবন আলোচনা করতে গিয়ে সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী সিনেমা ‘নায়ক’-এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, বহু সিনেমাপ্রেমীই বিশ্বাস করেন যে উত্তম কুমারকে মাথায় রেখেই এই ছবির চিত্রনাট্য বুনেছিলেন স্বয়ং সত্যজিৎ রায়। ওই ছবিতে অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের মতো এক তারকার অন্তর্দন্দ্ব, ভয় ও অতীতের স্মৃতিকে যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন উত্তম কুমার, তা তাঁর রোম্যান্টিক ভাবমূর্তির গণ্ডি ছাড়িয়ে এক অন্য উচ্চতা দিয়েছিল।
পাশাপাশি, মহানায়কের জীবনের প্রাথমিক সংগ্রাম এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়া শিক্ষা নিয়েও বার্তা দেন মোদী। তিনি স্মরণ করেন, কেরিয়ারের শুরুর দিকে উত্তম কুমারের পরপর কয়েকটি ছবি ফ্লপ হওয়ায় তাঁকে একসময় ‘ফ্লপ মাস্টার জেনারেল’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ব্যর্থতায় ভেঙে না পড়ে নিরলস পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং প্রতিভার জোরেই তিনি সমস্ত প্রতিকূলতা জয় করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, উত্তম কুমারের জীবন থেকে তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—কখনও হাল না ছেড়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়া।