‘মমতার সঙ্গে আর রাজনীতি করব না!’ পুরভোটের আগেই তৃণমূলের অন্দরে বেসুরো একাধিক হেভিওয়েট নেতা

আসন্ন পুরভোটে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) এবং এনসিপিআই (NCPI)-এর সম্ভাব্য জোট ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। দিল্লির এই শরিকি সমীকরণ কি তবে বাংলাতেও প্রভাব ফেলবে? এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি। আর এই পরিস্থিতির মাঝেই শাসকদলের প্রাক্তন কাউন্সিলরদের গলায় উঠে এল অত্যন্ত মিশ্র প্রতিক্রিয়া, যা দলের অন্দরের কোন্দলকেই ফের প্রকাশ্যে এনে ফেলেছে।

প্রাক্তন কাউন্সিলরদের মুখে ভিন্ন সুর
পুরভোটের হাওয়া গরম হতেই তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলররা বিভিন্ন শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কে কোন দিকে ঝুঁকছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ।

স্বপন সমাদ্দার: ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর ও মেয়র পারিষদ এবং সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত স্বপন সমাদ্দার এই প্রসঙ্গে বলেন, “রাজনীতিতে কেউ অচ্ছুৎ নয়। বিজেপি একটি সংবিধানগত দল। মানুষ ঠিক করবে কোনটা সঠিক আর কোনটা ভুল।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

রত্না শূর: অন্যদিকে, ১১৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর রত্না শূর প্রথম থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী। ১৯৯৫ সাল থেকে নেত্রীর সঙ্গে থাকা রত্না সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সুযোগ পেলে তিনি কালীঘাট-তৃণমূলের হয়েই ফের পুরভোটে লড়বেন। যারা দল ছেড়েছেন, তাঁদের তীব্র আক্রমণ করে তিনি তাঁদের ‘গদ্দার’ বলে কটাক্ষ করতেও পিছপা হননি।

তারক সিং: ১১৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা প্রাক্তন মেয়র পারিষদ তারক সিংয়ের সুর একেবারেই আলাদা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তিনি আর রাজনীতি করবেন না। প্রয়োজনে অন্য নেতৃত্বের অধীনে দলের প্রতীক পেলে তবেই তিনি ভাবনাচিন্তা করবেন।

অন্যান্য প্রতিক্রিয়া: তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ের প্রতিবাদে দল ছাড়া বিশ্বরূপ দে এনসিপিআই-এর অস্তিত্ব ও ইতিহাস নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ৯১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় আবার সম্পূর্ণভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই থাকার বার্তা দিয়েছেন।

বিজেপির অবস্থান ও এনসিপিআই-এর প্রতিক্রিয়া
এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও বিজেপি তাদের নিজেদের রণকৌশলে অনড় রয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অন্য দলের সমীকরণের ওপর নির্ভর না করে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি একাই কলকাতা ও হাওড়া কর্পোরেশন দখল করার ক্ষমতা রাখে। অন্যদিকে, এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার মনে করছেন যে, একসঙ্গে লড়াই করলে নির্বাচনী ফল অনেক বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে।

সবমিলিয়ে, পুরভোটের আগে এই জল্পনা আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কোন নতুন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *