ব্যাংককর্মীর মৃত্যুর পর মিলল না পেনশন! মৃত কর্মীর স্ত্রীর আর্জি খারিজ করে দিল্লি হাইকোর্ট কী রায় দিল?

সরকারি বা ব্যাংক কর্মীদের মৃত্যুর পর পরিবারের সুরক্ষায় ফ্যামিলি পেনশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সামান্য নিয়মের বেড়াজালে তা হাতছাড়া হতে পারে। ব্যাংক অফ মহারাষ্ট্রের মৃত কর্মীর স্ত্রীর করা পারিবারিক পেনশনের একটি মামলায় এমনই এক রায় দিল দিল্লি হাইকোর্ট। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং উপযুক্ত প্রমাণ পেশ করতে না পারায় মৃত কর্মীর স্ত্রীর করা আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

সম্পূর্ণ ঘটনাটি কী?
মামলার কেন্দ্রে রয়েছেন ব্যাংক অফ মহারাষ্ট্রের প্রয়াত কর্মী রমেশ চন্দ্রের স্ত্রী সাবিত্রী দেবী। রমেশ চন্দ্র ১৯৮৫ সালে ওই ব্যাংকে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কর্মরত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। সেই সময় তিনি ‘কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড’ (CPF) স্কিমের আওতায় ছিলেন। মৃত্যুর পর ব্যাংক নিয়মমাফিক তাঁর প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং গ্র্যাচুইটির সমস্ত টাকা ২০০৬ সালের জুলাই মাসেই মিটিয়ে দিয়েছিল।

এর প্রায় চার বছর পর, ২০১০ সালের আগস্ট মাসে ব্যাংক পুরোনো কর্মী ও তাঁদের পরিবারগুলির জন্য এককালীন পেনশন স্কিম বেছে নেওয়ার একটি বিশেষ সুযোগ (One-time option) দেয়। এই স্কিমের অধীনে আবেদন করার শেষ তারিখ ধার্য করা হয়েছিল ২০১০ সালের ১৮ অক্টোবর। কিন্তু সাবিত্রী দেবীর জমা দেওয়া ফর্মটি ছিল ২০১১ সালের ২ মার্চ তারিখের, যা নির্ধারিত ডেডলাইন পার হয়ে যাওয়ার বহু পরে জমা পড়েছিল।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও যুক্তি:
১. যোগ্যতা সত্ত্বেও ডেডলাইন মিস: আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মৃত কর্মীর পরিবার হিসেবে সাবিত্রী দেবী এই স্কিমের জন্য যোগ্য ক্যাটাগরিতে পড়তেন। কিন্তু নিয়মানুযায়ী, ‘এনেক্সার III’ অপশন ফর্মটি ১৮ অক্টোবর ২০১০-র মধ্যে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল।

২. জমা দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই: সাবিত্রী দেবী দাবি করেছিলেন যে তিনি সমস্ত টাকা সুদসমেত ফেরত দিতে রাজি আছেন। কিন্তু তিনি যে নির্দিষ্ট সময়ে ফর্মটি জমা দিয়েছিলেন, তার সপক্ষে কোনো রসিদ, সিলমোহর বা দাপ্তরিক প্রমাণ আদালতে পেশ করতে পারেননি। হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অপশন বেছে নেওয়া কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং পেনশন পাওয়ার আইনি অধিকার অর্জনের প্রধান শর্ত।

৩. ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ পত্রালাপ ও দীর্ঘ বিলম্ব: ২০১৪ সালে ব্যাংকের শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের মধ্যে এই নিয়ে কিছু অভ্যন্তরীণ আলোচনা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু আদালত জানিয়েছে এর অর্থ এই নয় যে ব্যাংক দেরি ক্ষমা করে দিয়েছে বা আবেদন মঞ্জুর করেছে। তাছাড়া ২০১৪ সালের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে ২০২৫ সালে হাইকোর্টে আসায় অতিরিক্ত বিলম্বের বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে যায়।

গুরুত্বপূর্ণ বার্তা:
আদালত এই রিট পিটিশন খারিজ করে জানিয়েছে যে, কেবল স্কিমের যোগ্যতার মাপকাঠিতে নাম থাকলেই আইনগত অধিকার জন্মায় না। এই মামলাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, ব্যাংক বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের যেকোনো কল্যাণমূলক প্রকল্পে আবেদন করার সময় শেষ তারিখ বা ডেডলাইন কঠোরভাবে মেনে চলা এবং সমস্ত জমা দেওয়ার রসিদ বা নথি সযত্নে সংরক্ষণ করা কতটা জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *