“সব মনে রাখা হবে, ক্ষমা করা হবে না!”-ভোরে অফিসে তাণ্ডব ও লুটপাট নিয়ে গর্জে উঠলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজ্য রাজনীতিতে ফের এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ভোররাতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটস্থিত পার্টি অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে এআইটিসি-র (AITC) অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি অফিস বিল্ডিংয়ের লবিতে কয়েকজন ব্যক্তি ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালাচ্ছে এবং আসবাবপত্র থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম।

ঘটনার পরপরই নিজের এক্স হ্যান্ডেল এবং সাংবাদিক বৈঠকে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করে দেখান যে, কীভাবে অফিসঘরের চেয়ার-টেবিল ভেঙে চুরমার করা হয়েছে, সমস্ত কাগজপত্র মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এবং চারপাশে কাচ ভেঙে পড়ে আছে।

বিজেপি এবং পুলিশকে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের

ঘটনার জেরে সরাসরি শাসক দল ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, “আজ ভোরে বিজেপি আমার পার্টি অফিসের এই হাল করেছে।” এর পাশাপাশি এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় রাজ্যপাল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও প্রধানমন্ত্রীর দফতরের হস্তক্ষেপ দাবি করার পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। প্রশ্ন তুলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কি কোনও পদক্ষেপ করবেন? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনও পদক্ষেপ করবেন? প্রধানমন্ত্রীর দফতর কিছু করবে? নাকি তাঁরা অন্যদিকেই তাকিয়ে থাকবেন? সময় এসে গিয়েছে, বিচারব্যবস্থা এই গুরুতর ঘটনায় নজর দিক।”

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, “আপনি তৃণমূল কংগ্রেসকে এত ভয় পাচ্ছেন কেন? আমাকে এত ভয় পাচ্ছেন কেন? যদি এভাবেই গুন্ডামি করে, ভাঙচুর চালিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলের সঙ্গে ব্যবহার করা হবে, তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর কোনও নৈতিক অধিকার নেই পদে বসার। ওঁর পদত্যাগ করা উচিত। এটা গণতন্ত্র নয়, এটা রাজনৈতিক গুন্ডামি।”

ভোর সাড়ে চারটেয় অস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব, নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

তৃণমূল সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এদিন ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ অস্ত্র হাতে একদল দুষ্কৃতী ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে চড়াও হয়। কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়, ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং দীর্ঘ দু’ঘণ্টা ধরে লাগাতার পুলিশকে ফোন ও ইমেল করা সত্ত্বেও প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। অভিষেক ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, “কলকাতা পুলিশ কোথায় ছিল? ভোর সাড়ে সাড়ে চারটের সময়ে অস্ত্র হাতে যদি একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে ঢুকে পড়তে পারে গুন্ডারা, ভেঙে ফেলতে পারে সবকিছু, আর পুলিশ সেখানে অনুপস্থিত থাকে, তাহলে ভেবে দেখুন পশ্চিমবঙ্গে কী ধরনের আইনের শাসন চলছে।”

তদন্তের দাবি তুলে অভিষেক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই এই একই অফিস সংলগ্ন এলাকায় বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও পুরকর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্ব ও কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এই মধ্যরাতের হামলা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চরম সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *