৮৬ লক্ষ কোটি টাকা থেকে হঠাৎ কমে ৮০ লক্ষ কোটি! GDP-র নতুন হিসাব নিয়ে কেন্দ্র যা জানাল…

আর্থিক প্রবৃদ্ধি বা জিডিপি (GDP)-র নতুন বার্ষিক ও ত্রৈমাসিক হিসাব প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষকে নতুন ভিত্তিবর্ষ ধরে, উন্নত হিসাব পদ্ধতি এবং আধুনিক মূল্যসূচকের ভিত্তিতে এই জিডিপি সিরিজ আপডেট করা হয়েছে। তবে এই নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসার পরই অর্থনীতি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মনে একাধিক প্রশ্ন দানা বেঁধেছিল। সেই সমস্ত জল্পনা ও সংশয় দূর করতে এবার মুখ খুলল মন্ত্রক এবং বিভিন্ন পরিসংখ্য়ানের নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করল।

উৎপাদন খাতে মূল্যবৃদ্ধি (Inflation) ঋণাত্মক কেন?
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে উৎপাদন খাতে GVA-র ইমপ্লিসিট ডিফ্লেটার (Implicit Deflator) বা পরোক্ষ মূল্যবৃদ্ধির হার -১.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাজারে উৎপাদিত পণ্যের দাম এক ধাক্কায় কমে গেছে।

কেন্দ্রের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘ডবল ডিফ্লেশন’ (Double Deflation) পদ্ধতিতে উৎপাদিত পণ্য এবং তা তৈরির কাঁচামালের দাম আলাদাভাবে হিসাব করা হয়। চলতি সময়ে উৎপাদিত পণ্যের দামের তুলনায় কাঁচামালের দাম অনেক বেশি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে নোমিন্যাল গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড (Nominal GVA) ৭.৭ শতাংশ বাড়লেও রিয়েল গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড (Real GVA) বেড়েছে ৯.২ শতাংশ। এই ব্যবধানের কারণেই ডিফ্লেটর ঋণাত্মক হয়েছে। উল্লেখ্য, জিডিপি ডিফ্লেটার হলো এমন এক অর্থনৈতিক সূচক, যা নির্দিষ্ট বছরে দেশের ভেতরে উৎপাদিত সমস্ত নতুন পণ্য ও সেবার মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপ করে।

গত বছরের GDP ৮৬ লক্ষ কোটি থেকে ৮০ লক্ষ কোটি টাকা হল কেন?
পুরনো ২০১১-১২ ভিত্তিবর্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশের জিডিপি ছিল ৮৬.০৫ লক্ষ কোটি টাকা। পরবর্তীতে ২০২২-২৩ ভিত্তিবর্ষে নতুন সিরিজ চালু হওয়ায় সেই হিসাব পরিবর্তিত হয়ে দাঁড়ায় ৮০.৩২ লক্ষ কোটি টাকা। এরপর আরও নতুন তথ্য ও সূচক যুক্ত হওয়ার পর তা কমে ৮০ লক্ষ কোটি টাকায় এসে ঠেকেছে। সরকারের স্পষ্ট দাবি, চলতি বছরের বৃদ্ধির হার বেশি দেখানোর উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে গত বছরের জিডিপি কমানো হয়নি। নতুন ভিত্তিবর্ষ, নিখুঁত তথ্য এবং উন্নত হিসাব পদ্ধতির কারণেই এই পরিবর্তন হয়েছে।

সিপিআই (CPI) ও ডব্লিউপিআই (WPI)-এর সঙ্গে জিডিপি ইনফ্লেশনের তফাত কেন?
খুচরো মূল্যবৃদ্ধির সূচক বা সিপিআই (CPI) ৩.৯ শতাংশ এবং পাইকারি মূল্যসূচক বা ডব্লিউপিআই (WPI) ৯ শতাংশের বেশি থাকার পরেও জিডিপি ইনফ্লেশন মাত্র ২.৫ শতাংশ কেন—এই প্রশ্নও উঠেছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, এই তিনটি সূচক সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় মাপে। সিপিআই সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের কেনাকাটার জিনিসপত্রের দাম মাপে, ডব্লিউপিআই পাইকারি বাজার ও কাঁচামালের দাম যাচাই করে, আর জিডিপি ডিফ্লেটার পুরো অর্থনীতির পণ্য ও পরিষেবার সামগ্রিক দামের পরিবর্তন বিবেচনা করে। তাই এদের হারের মধ্যে তফাত থাকা স্বাভাবিক।

খনি শিল্পে (Mining Sector) নমিন্যাল ও রিয়েলের এত ফারাক কেন?
২০২৬-২৭-এর প্রথম ত্রৈমাসিকে খনি ও পাথর উত্তোলনের (Mining & Quarrying) রিয়েল GVA ২.৪ শতাংশ হ্রাস পেলেও, খনিজ পণ্যের চড়া দামের কারণে নমিন্যাল GVA ২২.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম এপ্রিল, মে ও জুনে যথাক্রমে প্রায় ৭০ শতাংশ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদনে পতন সত্ত্বেও নমিন্যাল ভ্যালু অনেক উঁচুতে অবস্থান করছে।

পরিসংখ্যানগত অমিল (Statistical Discrepancy) কি পরে সংশোধন হবে?
জিডিপি সাধারণত উৎপাদন এবং ব্যয়—এই দুই দিক থেকে হিসাব করা হয়। দুই পদ্ধতির ফলাফলের মধ্যে যে তফাত থাকে, তাকেই পরিসংখ্যানগত অমিল বলা হয়। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী সময়ে আরও বিশদ তথ্য হাতে আসলে এই হিসাব ফের সংশোধন হতে পারে। তবে চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশিত হলে এই অমিল বা পার্থক্য অনেকটাই কমে যায় বা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি চলে আসে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *