টাকার দামে বিরাট লাফ! হু হু করে কমল ডলারের দর, দুই মাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে যা জানাল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক

দেশের আর্থিক বাজারে বড় স্বস্তি। মার্কিন ডলারের সাপেক্ষে ফের মাথা উঁচু করে দাঁড়াল ভারতীয় মুদ্রা। বৃহস্পতিবার ডলারের তুলনায় এক ধাক্কায় ৪৭ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে ভারতীয় টাকা পৌঁছে গেল গত দুই মাসের সর্বোচ্চ স্তর ৯৪.২৬ টাকায়। এর আগে বুধবার বাজার বন্ধের সময় এক মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্য ছিল ৯৪.৯৭ টাকা। বিদেশি মুদ্রার (Foreign Currency) জোগান প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের লাগাতার দুর্বলতাই টাকার এই শক্তিবৃদ্ধির প্রধান কারণ বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

কেন বাড়ল টাকার দাম? রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ভূমিকা:
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ কয়েকটি আর্থিক প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত মোট ১৩৬.৩৮ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি মুদ্রা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। যার সিংহভাগ এসেছে অনাবাসী ভারতীয়দের (NRI) বিদেশি মুদ্রা ভিত্তিক আমানত বা এফসিএনআর (FCNR) ডিপোজিট থেকে। পাশাপাশি, বহির্বাণিজ্যিক ঋণ এবং বিদেশ থেকে সংগৃহীত মুদ্রাভিত্তিক ঋণের মাধ্যমে যথাক্রমে ৩.৮৯ বিলিয়ন ও ৫.২৬ বিলিয়ন ডলার এসেছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের অনুমান ছিল, এফসিএনআর প্রকল্পগুলির মাধ্যমে বড়জোর ১০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আসতে পারে। কিন্তু বাস্তবের চিত্র সেই হিসেবকে বহু দূরে ফেলে দিয়েছে। এর ফলে বাজারে বিদেশি মুদ্রার জোগান একলাফে অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায়, দেশীয় মুদ্রার পতন রোধে এবং দর স্থিতিশীল রাখতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) হাত আরও শক্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ও ডলারের পতন:
শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ শক্তিশালী অর্থনীতিই নয়, আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতিও এখন ভারতীয় টাকার অনুকূলে রয়েছে। এশিয়ার একাধিক দেশের মুদ্রা বর্তমানে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে ডলার সূচক (Dollar Index) নেমে এসেছে ৯৯.৫০-এর নিচে। এর পাশাপাশি জাপানি ইয়েনের ঘুরে দাঁড়ানোও আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

সুদের হার কমার সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি:
বর্তমানে বাজারের সমস্ত নজর রয়েছে আমেরিকার নতুন অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সুদের হার কমানোর বিষয়ে ফেড আধিকারিকদের মন্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে বাজার। চলতি মাসেই সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমার সম্ভাবনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। যেখানে এক সপ্তাহ আগেও এই সম্ভাবনা ছিল মাত্র ৩৭ শতাংশের কাছাকাছি, তা এখন বেড়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে।

সবমিলিয়ে, বিদেশি মুদ্রার বিপুল জোগান, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের শক্তিশালী অবস্থান এবং এশীয় মুদ্রাগুলির ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিবাচক প্রভাবে আগামী দিনে টাকার বাজার স্থিতিশীল ও চাঙ্গা থাকার সম্ভাবনাই দেখছেন কারবারিরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *