সঙ্গিনীর দখল নিতে চা-বাগানে রক্তক্ষয়ী লড়াই! দুই বিশাল দাঁতালের মুখোমুখি সংঘর্ষে কেঁপে উঠল পাহাড়ি জনপদ

প্রেমের আধিপত্য বিস্তার এবং সঙ্গিনীর অধিকারকে কেন্দ্র করে দুই বিশাল পুরুষ হাতির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হলো কার্শিয়াংয়ের দুধিয়া সংলগ্ন লংভিউ চা-বাগানে। চা-বাগানের মাঝখানে দুই শক্তিশালী দাঁতালের এই ভয়ঙ্কর লড়াই দেখতে পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করে দেন চা-শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

চা-বাগানে কেন বাঁধল এই লড়াই? বন দফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রজনন মরসুমে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখা এবং সঙ্গিনী লাভের উদ্দেশ্যে প্রায়শই পুরুষ হাতিদের মধ্যে এমন হিংস্র লড়াই বেঁধে থাকে। সোমবার কার্শিয়াংয়ের দুধিয়ার ৩৪ নম্বর এলাকা সংলগ্ন লংভিউ চা-বাগানে আচমকাই মুখোমুখি চলে আসে দুটি বিশালাকার পূর্ণবয়স্ক হাতি। এরপর মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয়ে যায় তুমুল মারপিট। চা-বাগানের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চলা এই লড়াইয়ের বিকট গর্জনে পুরো আশপাশ কেঁপে ওঠে। কিছুদিন আগেই টুকরিঝাড় রেঞ্জে অনুরূপ একটি সংঘর্ষে একটি হাতি গুরুতর আহত হওয়ায়, এই ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই কোনো ঝুঁকি নেয়নি বন দফতর।

বর্তমানে কোথায় রয়েছে হাতি দুটি? খবর পাওয়া মাত্রই পানিঘাটা রেঞ্জের বনকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর হাতি দুটি পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভিন্ন দিকে চলে যায়। একটি হাতি বাগডোগরা রেঞ্জের জঙ্গল এবং অন্যটি বামনপোখরির গভীর জঙ্গলে আশ্রয় নেয়।

বর্তমানে হাতি দুটি আলাদা থাকায় চা-বাগান এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা আপাতত কেটেছে। তবে বনাধিকারিকদের আশঙ্কা, যেকোনো মুহূর্তে তারা ফের মুখোমুখি হতে পারে। সেই কারণে কার্শিয়াংয়ের ডিএফও দেবেশ পাণ্ডের নির্দেশ অনুযায়ী, উভয় রেঞ্জের বনকর্মীরা হাতি দুটির গতিবিধির ওপর ২৪ ঘণ্টার কড়া নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে লোকালয়ে ঢুকে কোনো নতুন বিপত্তি বা প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *