‘দোকানটাই আমার একমাত্র ভরসা!’ বুলডোজারের নোটিশ হাতে নিয়ে অঝোরে কাঁদলেন আশি বছরের বৃদ্ধা

উত্তরপ্রদেশের বেরিলি শহরে রাস্তা চওড়া করার মেগা পরিকল্পনা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। মুখ্যমন্ত্রী গ্রিড স্কিম (CM Grid Scheme)-এর তৃতীয় পর্যায়ে বেরিলির ইঁট পজায়া থেকে মহর্ষি চৌক পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ পথকে একটি আধুনিক ‘মডেল রোড’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। আর এই প্রকল্পের কাজ এগোতেই এলাকার বাসিন্দাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
১৪৬টি নির্মাণ ভাঙার নোটিশ ও কড়া নির্দেশ: সড়ক উন্নয়নের এই কাজের জন্য রাস্তার দুইধারে থাকা মোট ১৪৬টি নির্মাণ— যার মধ্যে রয়েছে বাড়ি, দোকান, হাসপাতাল এবং একাধিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান— সেগুলিকে চিহ্নিত করেছে নগর নিগম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকদের হাতে ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়ে নোটিশ ধরানো হয়েছে। নোটিশে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ দায়িত্বে অবৈধ ও অস্থায়ী জবরদখল না সরালে বুলডোজার চালিয়ে তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এমনকি উচ্ছেদের সমস্ত খরচও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে আদায় করা হবে এবং এফআইআর (FIR) দায়ের করারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
৮ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত জবরদখল: নগর নিগমের রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ওই এলাকার বিভিন্ন অংশে মূল রাস্তার ওপর ৮ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত পাকা নির্মাণ করে জবরদখল করা হয়েছিল। এর ফলে রাস্তাঘাট সঙ্কীর্ণ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। নতুন এই প্রকল্পের আওতায় রাস্তা চওড়া করার পাশাপাশি উন্নত মানের ফুটপাত এবং মাটির নিচ দিয়ে সমস্ত বৈদ্যুতিক ও ইন্টারনেট ক্যাবল নেওয়ার কাজ করা হবে, যাতে তারের জঞ্জাল থেকে মুক্তি মেলে।
কান্নায় ভেঙে পড়লেন ৮০ বছরের বৃদ্ধা: প্রশাসনের এই বুলডোজার নোটিশের জেরে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বহু মানুষের দাবি, গত কয়েক দশক ধরে এই এলাকায় ব্যবসা করে তাঁরা জীবিকা নির্বাহ করছেন। আকস্মিক এই উচ্ছেদের নোটিশে তাঁদের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ঘটনাস্থলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা পৌঁছলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। প্রায় ৮০ বছর বয়সি এক বৃদ্ধা নোটিশ হাতে অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে জানান যে, বিগত ২০ বছর ধরে তিনি ওই স্থানে ফার্নিচারের ব্যবসা করে নিজের সংসার চালাচ্ছেন। তাঁর স্বামী নেই এবং সন্তানরাও সঙ্গে থাকেন না। ফলে এই দোকানটিই তাঁর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি মুখ্যমন্ত্রী বা প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানান, যেন তাঁর শেষ বয়সের রুটি-রুজির এই ঠিকানা কেড়ে না নেওয়া হয় এবং বুলডোজার চালানোর আগে কোনো বিকল্প মানবিক সমাধান বের করা হয়।
বর্তমানে প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিবাদের সুর চড়ছে। উন্নয়নের স্বার্থে রাস্তা প্রশস্ত করা জরুরি হলেও, গরিব ও অসহায় মানুষদের পুনর্বাসনের দাবিও জোরালো হচ্ছে।