বাংলাদেশে ৫০ লক্ষ মানুষের জীবন চরম সংকটে! জরুরি ভিত্তিতে কৃষি সহায়তার বড় ঘোষণা জাতিসংঘের

বন্যা, জলাবদ্ধতা, কৃষি উপকরণের অভাব এবং আকাশছোঁয়া নিত্যপণ্যের দামের চাপে দেশের প্রায় ১০ লক্ষ কৃষিনির্ভর পরিবারের প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ বর্তমানে এক চরম অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-র ‘জরুরি কৃষি সহায়তা পর্যবেক্ষণ’-এর সাম্প্রতিক ১৪তম প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে, যা দেশের সামগ্রিক কৃষির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি সংকটে কোন অঞ্চলগুলি? এফএও-র তথ্য অনুযায়ী, মোট ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যার দিক থেকে চট্টগ্রাম বিভাগ দেশের শীর্ষে রয়েছে। এর পরেই রয়েছে রংপুর, ঢাকা এবং রাজশাহী বিভাগ। তবে কত শতাংশ কৃষি পরিবার সহায়তার প্রয়োজন বোধ করছে, সেই অনুপাতে বিচার করলে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নদী অববাহিকা, হাওড় এবং আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলিতে বর্ষার প্রকোপ বাড়ায় পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে।
বেড়েছে নগদ অর্থ ও সহায়তার চাহিদা: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরুরি সহায়তা চাওয়া পরিবারগুলোর প্রায় ৮৪ শতাংশই কোনো না কোনো গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশই প্রান্তিক ও দরিদ্র কৃষক, যাঁদের এক হেক্টরের কম জমি রয়েছে। জীবন বাঁচাতে ৬৭ শতাংশ পরিবার বাধ্য হয়ে বাকিতে খাবার কিনছেন, ৬৬ শতাংশ মানুষ চিকিৎসার খরচ কমিয়ে দিয়েছেন এবং ৩০ শতাংশ কৃষক কৃষি উপকরণ কেনার ব্যয় সংকোচন করেছেন। পাশাপাশি, ফসলে বিভিন্ন রোগবালাই বৃদ্ধি এবং সার ও বীজ সংগ্রহের সমস্যাও বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে নগদ অর্থের চাহিদা এবং গবাদিপশুর খাবার ও চিকিৎসার বিষয়টি এখন কৃষকদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
সরকারের পদক্ষপ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত: কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে সরকার দ্রুত নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের বীজ, চারা ও ত্রাণসামগ্রী দেওয়ার পাশাপাশি আগাম বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে ‘ব্রি ধান ১১৮’-এর মতো নতুন জাতের ধান চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষকদের মতে, এই সংকট কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফল নয়; বরং সরকারি ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলি যাতে প্রকৃত এবং প্রান্তিক কৃষকদের হাতে সঠিকভাবে পৌঁছায়, তার ওপর আরও বেশি নজরদারি চালানো জরুরি। আসন্ন আমন চাষের আগে একটি সমন্বিত ও কার্যকর সহায়তা প্যাকেজ চালু না করলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।