এই শহরে আইন করে নিষিদ্ধ মৃত্যু! নিয়ম ভাঙলে কী সাজা? আসল কারণ জানলে চমকে যাবেন

জন্ম আর মৃত্যু— প্রকৃতির এই দুই নিয়মকে আটকানো মানুষের সাধ্যের বাইরে। কিন্তু যদি শোনেন বিশ্বের এমন একটি শহর রয়েছে যেখানে আইন করে ‘মৃত্যু’ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তবে অবাক হওয়া স্বাভাবিক! এটি কোনো কাল্পনিক ঘটনা নয়, স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলের ‘লানজারন’ (Lanjarón) শহরে এমনই এক অবিশ্বাস্য নির্দেশিকা জারি রয়েছে।

কেন জারি হয়েছিল এই অদ্ভুত ফরমান? ১৯৯৯ সালে লানজারন শহরের তৎকালীন মেয়র হোসে রুবিও এক সরকারি নির্দেশিকা জারি করে ঘোষণা করেন— “লানজারন শহরে মারা যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলো।”

এর নেপথ্যে কোনো দার্শনিক তত্ত্ব বা অলৌকিক কারণ ছিল না, ছিল সম্পূর্ণ পরিকাঠামোগত সংকট:

  • সমাধিক্ষেত্রের অভাব: শহরের একমাত্র স্থানীয় সমাধিক্ষেত্রটি একেবারে ভর্তি হয়ে গিয়েছিল। নতুন করে কোনো মৃতদেহ কবর দেওয়ার মতো এক ইঞ্চি জায়গাও খালি ছিল না।

  • উচ্চ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ: বারবার জানিয়েও প্রশাসনের থেকে নতুন জমি না মেলায়, ক্ষোভ ও প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে মেয়র এই চরম পদক্ষেপ নেন।

মেয়রের বার্তা ও বর্তমান পরিস্থিতি: সেই সময় হাস্যরসের ছলেই মেয়র রুবিও শহরের বাসিন্দাদের সুস্থ জীবনযাপন করার পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, “আমি তো সামান্য একজন মেয়র। ঈশ্বর মাথার ওপর আছেন। আপনারা নিজেদের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন— যাতে জমি জোগাড় না হওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারেন!”

যদিও এই নির্দেশ অমান্য করার কারণে কাউকে গ্রেফতার বা আইনি শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি। তবে মেয়রের এই ঘোষণার পর ২৬ বছর কেটে গেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে সেই পুরনো আদেশনামা আজও প্রত্যাহার করা হয়নি।

এক নজরে স্পা-সংস্কৃতি ও নরওয়ের স্মৃতি: লানজারনের বাসিন্দারা এই বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছেন। নিজেদের স্বাস্থ্য রক্ষায় তাঁরা বেশ সচেতন এবং এই শহরে স্পা-সংস্কৃতি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

উল্লেখ্য, শুধু লানজারনই নয়— নরওয়ের ‘লংইয়ারবিন’ শহরেও একসময় মৃত্যু নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে সেখানে কারণটি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা; মাটি চিরহিমায়িত (Permafrost) হওয়ায় মৃতদেহ পচত না এবং মারাত্মক ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *