ডেলিভারি বয়কে আটকানোয় ভয়ঙ্কর রূপ! রক্ষীকে লাথি, জুতো পরিষ্কারের হুমকি অভিজাত মহিলার

অনলাইনে খাবার অর্ডার করার পর ডেলিভারি বয়কে আবাসনের গেটে যাচাইয়ের জন্য আটকেছিলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। আর সামান্য এই নিয়ম পালনের জেরে চরম ক্ষোভে ফেটে পড়ে আবাসনের রক্ষীদের ওপর চড়াও হলেন এক মহিলা। গালিগালাজ, প্রকাশ্য হুমকি থেকে শুরু করে নিরাপত্তারক্ষীদের গায়ে হাত তোলা এবং জাতপাত তুলে চরম অপমানের অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে। গ্রেটার নয়ডার একটি অভিজাত আবাসনের এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গ্রেটার নয়ডা ওয়েস্টের বিসরাখ থানা এলাকার ‘আম্রপালি সেঞ্চুরিয়ান পার্ক টেরেস হোমস’ আবাসনে। গত বুধবার রাতে ওই মহিলা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে খাবার অর্ডার করেছিলেন। আবাসনের সুরক্ষা সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তারক্ষীরা ডেলিভারি বয়কে গেটে আটকে পরিচয় যাচাই করতে গেলে মহিলা প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে সোজা নিচে নেমে আসেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, গেটে দাঁড়িয়ে তিনি নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন এবং একের পর এক অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, মহিলা শুধু মৌখিক গালিগালাজেই থেমে থাকেননি; চেয়ারে বসে থাকা এক রক্ষীকে লাথি মারার চেষ্টা করেন এবং আরেকজনকে হাত দিয়ে আঘাত করেন। রক্ষীদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি দম্ভভরে বলেন, “আমার সামনে তোর কোনও যোগ্যতা নেই, তোকে দিয়ে জুতো পরিষ্কার করাব।” এমনকি পুলিশ ডাকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, “কাকে ডাকবি ডাক!” অভিযোগ উঠেছে, এই উত্তপ্ত বচসার সময় তিনি দলিত ও জাতিগত বিদ্বেষমূলক মন্তব্যও করেছেন।

ঘটনার এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সমাজের একটি বড় অংশ মহিলার এমন ঔদ্ধত্য, অহংকার ও অমানবিক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে টাকা আর ক্ষমতার জোরে সমাজে খেটে খাওয়া মানুষদের এভাবে অসম্মান করার প্রবণতা দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। যদিও চরম প্ররোচনা ও অপমানের মুখেও নিরাপত্তারক্ষীরা যেভাবে নিজেদের ধৈর্য ও সংযম বজায় রেখেছেন, তার ব্যাপক প্রশংসাও করেছেন সচেতন নাগরিকরা।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত শুরু করেছে বিসরাখ থানার পুলিশ। পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ভাইরাল হওয়া ঘটনার পুরো ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তের পর অভিযুক্ত মহিলার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে ওই আবাসনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও, বহুতল আবাসনে খেটে খাওয়া কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের এই দুর্ব্যবহারের অন্ধকার দিকটি নিয়ে ফের শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *