মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেই নন্দীগ্রাম নিয়ে বিরাট ঘোষণা শুভেন্দুর! কী কী উপহার পেলেন এলাকাবাসী?

রেয়াপাড়ায় প্রশাসনিক সভা করে নন্দীগ্রামের উন্নয়নের জন্য একঝাঁক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন জেলার সার্বিক প্রশাসনিক কাজের তদারকি করার পাশাপাশি রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক নতুন প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করেন তিনি।

সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজকের দিনটা নন্দীগ্রামের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছিলেন। এই সাড়ে তিন-চার মাসের মেয়াদে আমরা আজ যে কাজগুলো করলাম, তার মধ্যে ৩২টি নতুন রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের পাশাপাশি বেশ কিছু রাস্তার ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয়েছে।” পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ ও হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের প্রচেষ্টায় গ্রামীণ নন্দীগ্রামে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিন প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত জিরাম-জি জব কার্ড হোল্ডারদের ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উপভোক্তারা এখন থেকে ৩১৭ রকমের কাজ করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি, এসএইচজি (SHG) গ্রুপগুলির অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে এবং চলতি বছরে নন্দীগ্রামে ১১,৭০০টি নতুন বাড়ি তৈরির ঘোষণা করে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও হরিপুরে একটি নতুন দমকল কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন তিনি।

মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামে ৬৭ হাজার মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পৌঁছে গিয়েছে এবং আরও ৫ হাজার আবেদন ভেরিফিকেশনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নে রেয়াপাড়া হেলথ সেন্টারকে ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৬০ বেড করা হয়েছে, মহেশপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আপগ্রেডেশন হয়েছে এবং নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতালে নতুন মাতৃ বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে জনৌষধি কেন্দ্র, ৫ টাকায় ‘মা-আহার’ ক্যান্টিন (যেখানে সপ্তাহে দু’দিন মাছ মিলবে) এবং ময়নাতদন্তের সুবিধার জন্য পুলিশ মর্গের ঘোষণা করা হয়।

পূর্ববর্তী সরকারকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকারের আমলে ভুয়ো স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড ছিল এবং ১৭০০ হাসপাতালে সুযোগ মিলত। অথচ আমাদের আয়ুষ্মান ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমায় ১৯০০ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা মিলছে, যেখান থেকে ইতিমধ্যেই ১৬ হাজার ৮০০ জন উপকৃত হয়েছেন।” হলদিয়ার সঙ্গে নন্দীগ্রামকে জুড়তে দীর্ঘদিনের জট কাটানো ব্রিজের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, “ভূমিপুজোতেও আসব এবং এই ব্রিজের উপর দিয়ে প্রথম গাড়িটা আমি নিজে নিয়ে যাব।” এছাড়া ২০২১ সালে রেল প্রকল্প আটকে রাখার অভিযোগ তুলে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় জমি রেলকে হস্তান্তরের কাজ প্রায় শেষ।

মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার থেকে শুরু করে ক্যানেল সংস্কার, কাঠের পুলের পরিবর্তে নতুন ব্রিজ এবং আধুনিক বাস স্ট্যান্ড তৈরির জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিশেষে নন্দীগ্রামবাসীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনারা আমাকে ৮২ হাজার ভোটে জিতিয়েছিলেন, এবার সেই রেকর্ড ভাঙবেন তো? নন্দীগ্রাম সবসময় আমার কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের জায়গায় থাকবে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *