অমিতাভ বচ্চন পারলে সানি দেওল কেন নন? ছবি ফ্লপ করতেই বিস্ফোরক প্রশ্ন তুললেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবানা আজমি

আমির খানের প্রোডাকশনে নির্মিত অত্যন্ত প্রত্যাশিত ছবি ‘বंटवारा ১৯৪৭’ বক্স অফিসে চরম ব্যর্থতার মুখ দেখেছে। ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অ্যাকশন হিরো सनी देओल এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রীতি জিন্তা। ছবিটির বিষয়বস্তু এবং এর পেছনে থাকা সামাজিক বার্তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় হওয়া সত্ত্বেও এটি দর্শক টানতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। আর এই ছবিটির অপ্রত্যাশিত বাণিজ্যিক ব্যর্থতা নিয়ে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন ছবির অন্যতম প্রধান অভিনেত্রী তথা প্রবীণ ও প্রতিভাদীপ্ত তারকা শबाনা আজমি। জুম-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি এই ব্যর্থতার নেপথ্যে থাকা সামাজিক মানসিকতা এবং দর্শকের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন তুলেছেন।
দর্শকদের মানসিকতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ:
সাক্ষাৎকারে শबाনা আজমি জানান যে ছবিটি বক্স অফিসে কেন এভাবে মুখ থুবড়ে পড়ল, তা তাঁর কাছে অত্যন্ত বিস্ময়কর। তাঁর মতে, ছবির বিষয়বস্তু এবং এর মাধ্যমে দেওয়া মানবিকতার বার্তা আজকের অস্থির সময়ে অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, সাধারণ মানুষ প্রেক্ষাগৃহে এসে ছবিটা দেখতেই চাননি। যারা এসেছিলেন, তাঁদের প্রতিক্রিয়াও ছিল অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর ও হতাশাজনক।
सनी देओलের চরিত্র নিয়ে বিতর্ক ও অমিতাভ বচ্চনের উদাহরণ:
পরিচালক রাজকুমার সন্তোষীর একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শबाনা আজমি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই নাকি এমন দাবি তুলছেন যে দর্শক বড় পর্দায় सनी देओलকে একজন মুসলিম বা পাকিস্তানি চরিত্রে দেখতে অভ্যস্ত নন, তাই তাঁরা তাঁকে এই রূপে গ্রহণ করতে পারেননি। এই যুক্তিকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও সংকীর্ণ বলে উড়িয়ে দিয়ে শबाনা আজমি কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের কেরিয়ারের সোনালী দিনের উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি বলেন, অতীতে অমিতাভ বচ্চন ‘কুলি’ কিংবা ‘দিওয়ার’-এর মতো একাধিক ব্লকবাস্টার ছবিতে অত্যন্ত সফলভাবে মুসলিম চরিত্র রূপায়ণ করেছেন এবং তাঁর চরিত্রের গায়ে থাকা ‘৭৮৬’ নম্বরের বিল্লা থেকে শুরু করে প্রতিটি মুসলিম চরিত্রকে মুক্তকণ্ঠে গ্রহণ করেছিলেন এদেশের দর্শকরা। তবে আজ হঠাৎ করে কেন এমন অসহিষ্ণু পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং কেন দর্শকদের একাংশ বিষয়টিকে অন্যভাবে নিতে বাধ্য হচ্ছেন, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিভাজন তৈরির চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন:
শনিবারের এই আলাপচারিতায় অভিনেত্রী আরও জোরালোভাবে বলেন যে, চলচ্চিত্র শিল্পের মতো একটি সৃজনশীল মাধ্যমে চরিত্র ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক বা গোঁড়ামিভরা মাপকাঠি তৈরি হওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। মানুষ ছবি না দেখেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য ছড়াচ্ছে এবং অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করছে। সমাজে এই ধরনের সচেতন বিভাজন কেন তৈরি করা হচ্ছে এবং এর নেপথ্যে ঠিক কী ধরনের মানসিকতা কাজ করছে, তা নিয়ে আত্মসময়ের সময় এসে গেছে বলেই মনে করেন এই প্রবীণ অভিনেত্রী।