চল্লিশ পেরোলে চিনি খাওয়া নিষিদ্ধ করা উচিত! নেপথ্যে কী যুক্তি দিয়ে চরম বিতর্কে জড়ালেন কৈলাশ বিজয়বর্গীয়?

দেশজুড়ে যখন লাগাতার চিনির দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ছে এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলন মধ্যপ্রদেশের হেভিওয়েট মন্ত্রী কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। ইনদওরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সওয়াল করেন যে, চিনির দাম আরও বাড়ানো উচিত। তবে এর পাশাপাশি তাঁর প্রস্তাব, শিশুদের জন্য সরকারি ন্যায্যমূল্যের দোকানে কম দামে চিনি মিললেও, চল্লিশোর্ধ্ব বয়সিদের জন্য চিনি খাওয়া সম্পূর্ণ বর্জন করা উচিত।
চলতি উৎসবের মরসুমের ঠিক আগে যখন ২৬ আগস্ট সর্বভারতীয় গড় খুচরো চিনির দাম প্রতি কেজি প্রায় ৬৫ টাকায় পৌঁছেছে, তখন মন্ত্রীর এই রসিকতা বা পরামর্শ ভালো ভাবে নেয়নি ওয়াকিবহাল মহল। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে বিজয়বর্গীয় দাবি করেন, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরাও এই বয়সের পর চিনি খেতে বারণ করেন এবং প্রয়োজনে চিনির বদলে গুড় খাওয়া যেতে পারে। উল্লেখ্য, বর্তমান সময়ে চিনির এই আকাশছোঁয়া দামের জন্য বিরোধীরা সরকারের ইথানল নীতিকে কাঠগড়ায় তুলছে, যদিও কেন্দ্রীয় সরকার পর্যাপ্ত মজুত থাকার দাবি করে সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।
মন্ত্রীর এই ‘মিষ্টি’ মন্তব্য সামনে আসতেই ময়দানে নেমে পড়েছে কংগ্রেস। মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটওয়ারি তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেছেন, মূল্যবৃদ্ধির যাঁতাকূপে পিষ্ট সাধারণ মানুষ যখন দিশেহারা, তখন মন্ত্রীর এহেন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির সঙ্গে একপ্রকারের নির্মম উপহাস ছাড়া আর কিছুই নয়। একদিকে লাগামছাড়া বাজারদর আর অন্যদিকে মন্ত্রীর বিতর্কিত বয়ান—সব মিলিয়ে চিনির চড়া দাম নিয়ে রাজনৈতিক পারদ এখন চড়চড়িয়ে চড়ছে।