‘একলা চলো’ নীতিতেই জামায়াত? নাহিদ ইসলামের দূরত্ব ঘিরে বড় প্রশ্নের মুখে বাংলাদেশের রাজনীতি!

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনসহ বাংলাদেশে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়ে দরকষাকষি শুরু হতেই তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে পাওয়া ইঙ্গিত অনুযায়ী, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে জামায়াতের একক সিদ্ধান্ত জোটের ভেতরে তৈরি করেছে চরম দূরত্ব ও অস্বস্তি।

নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা না হলেও, জামায়াতে ইসলামী তাদের নিজস্ব প্রার্থীদের এককভাবে মাঠ প্রস্তুতের নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছে। এর ফলেই শরিক দলগুলোর মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ক্ষোভ।

কওমি দলগুলোর পর এবার এনসিপি: বাস্তবে কী ঘটছে জোটে?

এর আগেই কওমি মাদ্রাসা কেন্দ্রিক ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দলের জোট ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন সামনে এসেছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি (NCP)-র সাথে দূরত্ব বাড়ার খবর।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এই চর্চা আরও তীব্র হয় শনিবার অনুষ্ঠিত জোটের দীর্ঘ লংমার্চ কর্মসূচিতে। যেখানে জোটের অন্যতম শীর্ষ মুখ তথা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রহস্যজনকভাবে অনুপস্থিত ছিলেন।

এই প্রসঙ্গে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান:

“আমরা এখনো জোটে রয়েছি। তবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে যে, জনগণের মৌলিক দাবি-দাওয়া নিয়ে আলাদাভাবে মাঠে নামা এবং নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরা এখন অত্যন্ত প্রয়োজন।”

‘আলাদা লড়লেও ক্ষতি নেই’: জামায়াতের স্পষ্ট অবস্থান

শরিকদের এই অসন্তোষ ও দূরত্বের বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ কৌশলগত জবাব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যদি প্রতিটি দল আলাদাভাবেও করে, তবুও মূল রাজনৈতিক জোটে কোনো বিরূপ প্রভাব বা সমস্যা তৈরি হবে না।

তবে জামায়াতের এমন একতরফা ‘একলা চলো’ সিদ্ধান্ত কেবল এনসিপি নয়, জোটের অন্যান্য ছোট-বড় শরিকদের মধ্যেও ব্যাপক দোলাচল সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই এই ১১ দলীয় ঐক্যের স্থায়িত্ব বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *