‘জ্ঞানেশ কুমার না থাকলে মোদী-শাহ প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতেই পারতেন না!’ রামলীলা ময়দানে রাহুলের বোমা ফাটানো হুঙ্কার!

দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানের মহাসমাবেশ থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ও বিস্ফোরক সুর চড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সমাবেশে উপস্থিত সর্বস্তরের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাহুল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, মোদী-শাহের বিরুদ্ধে ওঠা এই কণ্ঠস্বর কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের নয়—এটি দেশের তরুণ প্রজন্ম, কৃষক ও সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ।

‘সংবিধান আপনাদের চেয়ে বড়, টাকার জোরে গণতন্ত্র কেনা যায় না’

কেন্দ্রীয় সরকারকে সরাসরি নিশানা করে রাহুল গান্ধী বলেন, সরকার পরিচালকদের হয়তো অনেক টাকা এবং ক্ষমতা থাকতে পারে, কিন্তু তাঁরা কখনোই দেশের সংবিধানের চেয়ে বড় হতে পারেন না।

তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আপনারা নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহকে যে বার্তা দিতে চেয়েছিলেন, তা পরিষ্কার পৌঁছে গিয়েছে। এই দেশের তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষ পরিষ্কার বলে দিচ্ছে—আমরা কোনোভাবেই দেশে গণতন্ত্রকে শেষ হতে দেব না।”

ভোট চুরি নিয়ে চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান ও বিস্ফোরক অভিযোগ

রামলীলার মঞ্চ থেকে ভোট চুরির গুরুতর অভিযোগ তুলে রাহুল দাবি করেন, এটি আজকের নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, ছত্তিসগঢ়, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও ভোট চুরির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। ইভিএমের কারচুপি এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে রাহুল তুলে ধরেন এক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান:

  • ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ভোটার তালিকা থেকে পাকাপাকিভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ ভোটারের নাম।

  • প্রতি ৭ জন ভোটারের মধ্যে ১ জনকে লিস্ট থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে (যা শতাংশের বিচারে প্রায় ১৫ শতাংশ)।

  • ২০২৪ সালের নির্বাচনে এনডিএ (NDA) এবং ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ শতাংশ, অথচ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ১৫ শতাংশ ভোটারকে!

রাহুলের তোপ, “এই নির্বাচন পুরোপুরি অসাংবিধানিক ও চুরির নির্বাচন। এই কথা আমি বলছি না, এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ইলেকশন কমিশনেরই।”

‘এটা সাধারণ চুরি নয়, স্রেফ দেশদ্রোহিতা!’

এই পুরো প্রক্রিয়াকে সরাসরি ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ বা দেশদ্রোহিতার সঙ্গে তুলনা করেছেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর মতে, দোকান থেকে কিছু চুরি করা সাধারণ অপরাধ, কিন্তু সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর ও গণতান্ত্রিক অধিকার চুরি করা ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ (Rarest of Rare) অপরাধ।

সবশেষে নির্বাচন কমিশন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে রাহুল গান্ধীর সরাসরি মন্তব্য—“জ্ঞানেশ কুমার না থাকলে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না এবং অমিত শাহও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না।”

দিল্লির এই মহাবেশ থেকে রাহুলের এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন রাজনৈতিক ঝড়ের সূচনা করল।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *