বারাণসী থেকে কলকাতা সফর হবে আরও ঝড়ের গতিতে! বদলে গেল এক্সপ্রেসওয়ের নকশা, কমছে দূরত্ব

বারাণসী থেকে কলকাতা পর্যন্ত নির্মিতব্য ছয় লেনের এক্সপ্রেসওয়ের নকশায় বড়সড় বদল আসার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিহারের সাসারামে পাহাড় কেটে একটি সুড়ঙ্গ বা টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এই সুড়ঙ্গটি নির্মিত হলে বারাণসী থেকে কলকাতার যাতায়াত আগের চেয়ে আরও সংক্ষিপ্ত ও দ্রুততর হবে।
বিহারের মধ্য দিয়ে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার বিস্তৃত বারাণসী-কলকাতা এক্সপ্রেসওয়েটি রাজ্যটিতে মোট সাতটি ভিন্ন প্যাকেজে নির্মিত হচ্ছে। এর মধ্যে প্যাকেজ ৪-এর আওতায় প্রথমে রোহতাস জেলার সদর দপ্তর সাসারামের পাহাড়ের মধ্য দিয়ে সুড়ঙ্গ নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশগত কারণে সেই প্রস্তাব প্রাথমিক পর্যায়ে বাতিল করে পাহাড়ের পাশ দিয়ে রাস্তাটি ঘোরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাস্তাটি তারাচণ্ডীর কাছে জিটি রোডের নিচ দিয়ে ঘোরানোর ফলে এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ কিলোমিটার বেড়ে গিয়েছিল। তবে সম্প্রতি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পুনরায় পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরির প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্য়েই এই সুড়ঙ্গের প্রস্তাবটি রাজ্য বন্যপ্রাণী বোর্ডেরও অনুমোদন লাভ করেছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে বন বিভাগ পাহাড়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কাজ করার অনুমতি দেয়নি। পাশাপাশি, ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI) টানেল বোরিং মেশিন ব্যবহার করলে খরচ দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিল। তবে বর্তমান নতুন সড়ক নকশা অনুযায়ী, সেই জটিলতা কাটিয়ে সুড়ঙ্গটি তৈরির চেষ্টা চলছে। এই টানেলটি সম্পূর্ণ হলে রুটটির অতিরিক্ত ১৫ কিলোমিটার দূরত্ব যেমন কমবে, তেমনই বারাণসী থেকে কলকাতা পৌঁছানোর সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। উল্লেখ্য, এই মেগা প্রকল্পের আওতায় বিহারের প্যাকেজ ৫-এর অধীনে সোন নদীর উপর একটি সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুসহ মোট ছটি ছোট সেতুও নির্মিত হচ্ছে।