বিষ বা যন্ত্র নয়, ইতালির সমুদ্রে নামল অক্টোপাসের বিশাল বাহিনী! নীল কাঁকড়ার তাণ্ডবে কপালে হাত বিজ্ঞানীদের

ইতালির সমুদ্র উপকূলে এখন ত্রাস সৃষ্টি করেছে আটলান্টিক মহাসাগরের এক বহিরাগত প্রাণী— নীল কাঁকড়া। সংখ্যায় এত দ্রুত এরা বৃদ্ধি পাচ্ছে যে, এর জেরে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন দেশটির জেলে এবং সামুদ্রিক খাদ্য ব্যবসায়ীরা। মৎস্যজীবীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ‘কোল্ডিরেত্তি’-র তথ্য অনুযায়ী, এই নীল কাঁকড়ার উপদ্রবে ইতিমধ্যে প্রায় ২০ কোটি ইউরোর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় ঝিনুকের উৎপাদন এক ধাক্কায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এমনকি ইতালির দীর্ঘতম নদী ‘পো’-এর মোহনা থেকেও এই কাঁকড়া উদ্ধার হওয়ায় চিন্তার ভাঁজ বেড়েছে বিজ্ঞানীদের কপালে।

কেন এই নীল কাঁকড়া বিপজ্জনক?
ধারণা করা হয়, কয়েক দশক আগে কার্গো জাহাজের মাধ্যমে এরা ইতালির জলসীমায় প্রবেশ করেছিল। প্রাকৃতিক শিকারী না থাকায় এবং পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ায় এদের সংখ্যা মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে গিয়েছে। প্রায় দুই পাউন্ড ওজনের এই কাঁকড়াগুলোর শক্তিশালী নখর দিয়ে মাছ ধরার জাল অনায়াসেই ছিঁড়ে ফেলতে পারে। পাশাপাশি এরা প্রচুর পরিমাণে ক্ল্যাম ও মাসেল জাতীয় শামুক খেয়ে ফেওয়ায় সামুদ্রিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

‘অক্টো-ব্লু’ প্রকল্প ও অক্টোপাসের ফৌজ
এই সংকট মোকাবিলায় কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক বা কৃত্রিম যন্ত্রের সাহায্য না নিয়ে এক অভিনব প্রাকৃতিক উপায় বেছে নিয়েছেন বোলোগনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। ‘অক্টো-ব্লু’ নামক এই প্রকল্পের অধীনে অ্যাড্রিয়াটিক উপকূলের রিচিওনে এবং সেসেনাটিকো এলাকায় প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার ছোট অক্টোপাস সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাগারে তৈরি এই অক্টোপাসগুলো বড় হয়ে প্রতিদিন প্রায় চারটি করে নীল কাঁকড়া শিকার করতে সক্ষম। যদিও ল্যাবরেটরিতে জন্ম নেওয়া এই বাচ্চা অক্টোপাসগুলোর মৃত্যুহার ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, তবুও বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে বেঁচে থাকা অক্টোপাসগুলো নীল কাঁকড়ার বংশবৃদ্ধি রোধে বড় ভূমিকা রাখবে। কারণ একটি স্ত্রী নীল কাঁকড়া একবারে প্রায় ১৫ লক্ষ পর্যন্ত ডিম পাড়তে পারে।

খাবারের মেনুতেও নীল কাঁকড়া!
এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সাধারণ মানুষকেও নীল কাঁকড়া খাওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে ইতালি সরকার। বর্তমানে সুপারমার্কেট থেকে শুরু করে দেশের নামী-দামি রেস্তোরাঁর পাস্তা ও সালাদের মেনুতেও জায়গা করে নিয়েছে এই কাঁকড়া। তবে উপদ্রব এতই ব্যাপক যে, শুধুমাত্র মানুষের খাদ্য হিসেবে গ্রহণের মাধ্যমে এদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এই অদ্ভুত সামুদ্রিক সংকট কাটাতে শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের পরীক্ষামূলক অক্টোপাস বাহিনীর ওপরই ভরসা রাখছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *