পেনশনভোগীদের জন্য বিরাট সুখবর! ১৫ বছরের অপেক্ষা কি এবার কমছে ১০-১২ বছরে? জানুন বড় আপডেট

কেন্দ্রীয় সরকারি পেনশনভোগী এবং কর্মচারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এবার পেনশন রূপান্তর বা কমিউটেড পেনশন (Commuted Pension) পুনর্বহালের ১৫ বছরের সময়সীমা কমানোর জোরালো দাবি তোলা হয়েছে। বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী সংগঠন অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে সুপারিশ পেশ করে জানিয়েছে যে, এই পুনর্বহালের মেয়াদ কমিয়ে ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে নামিয়ে আনা উচিত। তাদের মূল যুক্তি হলো, বর্তমানে যে নিয়মটি বলবৎ রয়েছে, তা বহু দশক আগের পুরোনো আর্থিক এবং অ্যাকচুয়ারিয়াল অনুমানের উপর ভিত্তি করে তৈরি।
পেনশন রূপান্তর বলতে কী বোঝায়?
সাধারণত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা অবসরের সময় তাঁদের মোট মূল পেনশনের সর্বোচ্চ ৪০% পর্যন্ত এককালীন অর্থ বা ক্যাশ হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। এর বিনিময়ে প্রতি মাসে তাঁদের নির্দিষ্ট পরিমাণ পেনশন কেটে নেওয়া হয়। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এই কর্তিত পেনশন দীর্ঘ ১৫ বছর পর পুনরায় আগের মতো সম্পূর্ণভাবে চালু বা পুনর্বহাল হয়।
তবে বিভিন্ন কর্মচারী ও পেনশনভোগী সংগঠনগুলির যুক্তি, যে সময়ে এই কাঠামোটি তৈরি করা হয়েছিল, তারপর থেকে দেশের আর্থিক এবং জনমিতি বা জনসংখ্যাগত পরিস্থিতিতে আমূল পরিবর্তন এসেছে। তাই ১৫ বছরের এই দীর্ঘ সময়সীমা পুনর্বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।
কোন সংগঠন কী দাবি তুলেছে?
এনসি-জেসিএম (NC-JCM), এআইডিইএফ (AIDEF) এবং এফএনপিও (FNPO): যৌথ পরামর্শদাতা সংস্থার জাতীয় পরিষদ সহ এই সংগঠনগুলি পেনশন পুনর্বহালের মেয়াদ কমিয়ে ১১ বছর করার দাবি জানিয়েছে।
অন্যান্য সংগঠন: ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ টেকনিক্যাল সুপারভাইজার্স অ্যাসোসিয়েশন ১২ বছরের প্রস্তাব পেশ করেছে। অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া নিউ পেনশন স্কিম এমপ্লয়িজ ফেডারেশন এটি ১০ বছর করার পক্ষে সওয়াল করেছে। এছাড়া ভারত পেনশনিয়ার্স সমাজ এবং অল পেনশনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও ১১ বছরের সুপারিশ করা হয়েছে।
সময়সীমা কমানোর পক্ষে কী যুক্তি দেওয়া হচ্ছে?
এনসি-জেসিএম-এর মতে, ১৫ বছর মেয়াদী পুনঃস্থাপন বিধিটি প্রায় চার দশক আগের আর্থিক ও বীমা-সংক্রান্ত মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সুদের হার, নাগরিকদের গড় আয়ু, মৃত্যুহার এবং বীমা সংক্রান্ত ঝুঁকির তারতম্যের কারণে এই বিধির একটি নতুন মূল্যায়ন বা পর্যালোচনা প্রয়োজন।
সংগঠনগুলির হিসেব অনুযায়ী, মাসিক কর্তনের মাধ্যমে নির্ধারিত অর্থ আসলে প্রায় ১০ থেকে ১১ বছরের মধ্যেই সম্পূর্ণ উঠে আসে। কিন্তু তারপরেও যদি ১৫ বছর পর্যন্ত কর্তন চলতে থাকে, তবে সরকারের কোষাগারে অতিরিক্ত অর্থ চলে যায়। ভারত পেনশনিয়ার্স সমাজ জানিয়েছে, ১৯৮৬, ২০০৮ এবং ২০২৩ সালের বিভিন্ন মাপকাঠির তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে যে বর্তমানে সুদের হার কমলেও গড় আয়ু অনেক বেড়েছে। তাই তাদের সর্বশেষ মাপকাঠি অনুযায়ী এই পুনরুদ্ধারের সময়কাল আনুমানিক ১১.২৫ বছর হওয়া উচিত।
পেনশনভোগীরা কতটা আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন?
যাঁদের মূল পেনশন তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়মের পরিবর্তনের বড় ধরনের আর্থিক প্রভাব রয়েছে। একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করা যায়: ধরা যাক, কোনো পেনশনভোগীর প্রতি মাসের মূল পেনশন ৩৫,০০০ টাকা এবং তিনি তার ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ১৪,০০০ টাকা এককালীন হিসেবে তুলে নিয়েছেন।
বর্তমান ১৫ বছরের নিয়ম অনুযায়ী: ১৮০ মাস ধরে এই কর্তন চললে মোট ২৫.২০ লক্ষ টাকা কাটা হবে।
১১ বছরের নিয়ম চালু হলে: ১৩২ মাস ধরে কর্তন চললে মোট পরিমাণ দাঁড়াবে ১৮.৪৮ লক্ষ টাকা।
এর ফলে দুই ব্যবধানের পার্থক্য দাঁড়াবে সরাসরি ৬.৭২ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, নিয়ম বদলালে ৪৮ মাসের জন্য অতিরিক্ত টাকা কাটা থেকে রেহাই পাবেন পেনশনভোগীরা। এই বিশাল আর্থিক ফারাকের কথা মাথায় রেখেই সংগঠনগুলি অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে সেন্ট্রাল সিভিল সার্ভিসেস (পেনশন কমিউটেশন) রুলস, ১৯৮১-র বিধি ১০এ পর্যালোচনার জোরালো আবেদন জানিয়েছে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ এবং সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর। যতদিন না এই নিয়মে কোনো পরিবর্তন এনে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত পুরোনো ১৫ বছরের নিয়মই বহাল থাকছে।