ইউপি ভোটে কি বদলে যাবে খেলার ছক? নারীদের জন্য বড় বার্ষিক ভাতার মাস্টারস্ট্রোক এসপি-র!

আর মাত্র কয়েক মাসের অপেক্ষা, তারপরেই উত্তরপ্রদেশে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচন আসতে এখনও কিছুটা সময় বাকি থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলি এখন থেকেই ময়দানে নেমে পড়েছে। আর এই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাজ্যের নারী সমাজ। বিগত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নারীরাই যে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন, তা বলাই বাহুল্য। আর সেই সমীকরণ মাথায় রেখেই শাসক থেকে বিরোধী—সব শিবিরই এখন নারীকেন্দ্রিক প্রকল্প ও সুযোগ-সুবিধার ডালি সাজাতে ব্যস্ত। ‘স্ত্রী সম্মান সমৃদ্ধি যোজনা’ ও সমাজবাদী পার্টির মাস্টারস্ট্রোকসম্প্রতি নারী সমতা দিবসে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি (SP) এক বিরাট ঘোষণা করেছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উত্তরপ্রদেশে তারা ক্ষমতায় এলে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে ‘স্ত্রী সম্মান সমৃদ্ধি যোজনা’ চালু করা হবে। এর আওতায় দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী নারীদের প্রতি বছর ৪০, এমনকি প্রয়োজনে এই অর্থের পরিমাণ ধাপে ধাপে আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পিছিয়ে নেই বর্তমান যোগী আদিত্যনাথ সরকারও। লখনউতে ‘লোকমাতা অহল্যাবাই মাতৃশক্তি যাত্রা’ প্রকল্পের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, অক্টোবর-নভেম্বর মাসের মধ্যে ৫০,০০০ কৃতি স্নাতক ছাত্রীকে স্কুটার দেওয়া হবে। এছাড়া রক্ষা বন্ধন উপলক্ষে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস যাতায়াতের বিশেষ সুবিধাও দেওয়া হয়েছে। ৬০ বছরের বেশি বয়সি নারীরাও এই ফ্রি বাস সার্ভিসের আওতায় এসেছেন। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের প্রতিটি উন্নয়নমূলক ভাবনার কেন্দ্রেই যে মহিলারা রয়েছেন, তা বারবার স্পষ্ট করছে শাসক শিবির। ভোটের বাজারে নারী বন্দনা বনাম টিকিটে চরম কৃপণতা প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক দলগুলি নারীদের কল্যাণ, সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক অধিকার নিয়ে সভা-সমাবেশে যতই চড়া সুর চড়াক না কেন, ভোটের টিকিট বণ্টনের সময় কি সেই একই উদার মনোভাব দেখা যায়? পরিসংখ্যান কিন্তু অন্য কথা বলছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও এই বৈপরীত্য স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। ৫৪৩টি আসনের বিপরীতে সারাদেশে মোট ৮,৩৬০ জন প্রার্থী লড়লেও এর মধ্যে মাত্র ৮০০ জন ছিলেন নারী—যা মোট প্রার্থীর মাত্র ১০ শতাংশ! এর মধ্যে আবার অনেকে লড়েছেন স্বতন্ত্র বা ছোট দলের হয়ে। মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলি মহিলা প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে বরাবরই কার্পণ্য করে এসেছে।একই ছবি দেখা গেছে বিগত বিধানসভা নির্বাচনেও। ২০২২ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে মোট ৪,৪২২ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৫৫৯ জন ছিলেন মহিলা (মাত্র ১৩%)।কংগ্রেস সেবার ‘আমি মেয়ে, আমি লড়তে পারি’ স্লোগান তুলে সর্বাধিক ১৫৫ জন মহিলা প্রার্থী দিয়েছিল।ক্ষমতাসীন বিজেপি মাত্র ৪৫ জন এবং সমাজবাদী পার্টি ৪২ জন মহিলা প্রার্থীকে ময়দানে নামিয়েছিল।মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি (BSP) টিকিট দিয়েছিল ৩৮ জন মহিলাকে।শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে জয়ী হন মাত্র ৪৪ জন মহিলা প্রার্থী। এর মধ্যে বিজেপি ও তাদের শরিক দলগুলোই সবচেয়ে বেশি আসনে জয়লাভ করে। ২০১৭ এবং ২০১২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যানও প্রায় একই রকম কথা বলে, যেখানে মোট প্রার্থীর তুলনায় মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা ছিল অত্যন্ত নগণ্য।নারীদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং রাজনৈতিক সমীকরণ নিজেদের পক্ষে টানতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতির অন্ত নেই। কিন্তু ভোটের ময়দানে টিকিট বণ্টনের বেলায় এই দলগুলো কতটা উদারতা দেখায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আসন্ন ২০২৭-এর বিধানসভা লড়াইয়ে দলগুলি নারী প্রতিনিধিত্বের পরিসর কতটা বাড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।