বকেয়া মেটানোর বিরাট সুযোগ! ইপিএফও-র নতুন স্কিমে লাখ লাখ কর্মীর ভাগ্যে ঘুরতে চলেছে চাকা?

এতদিন ধরে বহু সংস্থাই তাদের যোগ্য কর্মচারীদের কর্মচারী ভবিষ্য তহবিল (EPF) প্রকল্পের আওতায় নথিভুক্ত করেনি। সেই সমস্ত নিয়োগকর্তা বা মালিকদের পুরনো ভুলের খেসারত এড়িয়ে রেকর্ড নিয়মিত করার জন্য ফের এক সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে এল কেন্দ্র। কর্মচারী ভবিষ্য তহবিল সংস্থা বা EPFO আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে ‘কর্মচারী নথিভুক্তি অভিযান (EEC) ২০২৬’। এটি মূলত সেই সমস্ত যোগ্য কর্মচারীদের পিএফ-এর আওতায় নিয়ে আসার একটি বিশেষ এককালীন সুযোগ, যাঁরা গত ২০০৯ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে ইপিএফ-এর বাইরে ছিলেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ পর্যন্ত খোলা থাকবে এই বিশেষ অভিযান।

কাদের জন্য প্রযোজ্য এই অভিযান?
যে সমস্ত কর্মচারীদের নিয়মানুযায়ী প্রথম থেকেই ইপিএফ-এর আওতাভুক্ত হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু কোনো কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা করা হয়নি, তাঁদের জন্যই এই স্কিম। তবে এক্ষেত্রে একটি কঠোর ও বাধ্যতামূলক শর্ত রয়েছে। তা হলো, এই প্রচারের অধীনে যাঁদের নাম ঘোষণা করা হবে, সেই কর্মচারীকে অবশ্যই ঘোষণার তারিখে জীবিত থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হতে হবে। অর্থাৎ, যে কর্মীরা ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে গিয়েছেন, তাঁদের নাম এই ঘোষণার অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।

ইপিএফও সমস্ত নিয়োগকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে, তাঁরা যেন নিজেদের কর্মসংস্থান ও বেতনের নথি ভালোভাবে খতিয়ে দেখে সেই সমস্ত কর্মচারীদের শনাক্ত করেন, যাঁরা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও এতদিন ইপিএফ-এর আওতার বাইরে ছিলেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নিয়োগকর্তাদের অতীতের তালিকাভুক্তির ফাঁকফোকর পূরণ করা এবং যোগ্য কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন ও সোশ্যাল সিকিউরিটির মতো সামাজিক সুরক্ষা সুবিধাগুলি নিশ্চিত করা।

নিয়োগকর্তারা কী ধরনের ছাড় বা সুবিধা পাবেন?
EEC 2026-এর আওতায় সবচেয়ে বড় স্বস্তি মিলছে কর্মচারীর পিএফ অবদানের অংশ নিয়ে। অতীতে যে সমস্ত ক্ষেত্রে কর্মচারীর অংশ তাঁর বেতন থেকে কাটা হয়নি, সেখানে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে সেই কর্মীর অবদান সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। তবে নিয়োগকর্তাকে নিয়ম অনুযায়ী প্রযোজ্য সুদ এবং প্রশাসনিক ফি সহ তাঁদের নিজস্ব অংশের চাঁদা জমা দিতে হবে। এছাড়া এই প্রচারের আওতায় নামমাত্র এককালীন ১০০ টাকার ক্ষতিপূরণ প্রযোজ্য হবে।

এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তারা কর্মচারীদের বেতন থেকে অতীতে না কাটা চাঁদা নতুন করে আদায় করার ঝামেলা ছাড়াই পুরনো তালিকাভুক্তির সমস্ত ফাঁক পূরণ করতে পারবেন। এমনকি যেসব প্রতিষ্ঠান পুরনো ইপিএফ আইন বা সামাজিক সুরক্ষা কোডের অধীনে আইনি বা আধা-বিচারিক জটিলতার মুখে রয়েছে, তারাও নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে এই অভিযানের সুবিধা নিতে পারবে।

কীভাবে আবেদন বা নাম নথিভুক্ত করা যাবে?
পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইন মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে।
১. প্রথমে নিয়োগকর্তাকে UMANG অ্যাপের মাধ্যমে ফেস অথেন্টিকেশন বা মুখমণ্ডলের প্রামাণিকীকরণের সাহায্যে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় থাকা প্রতিটি কর্মচারীর জন্য একটি করে ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (UAN) তৈরি করতে হবে।
২. এরপর EPFO এমপ্লয়ার পোর্টালে গিয়ে EEC-2026 মডিউলটি বেছে নিতে হবে।
৩. সেখানে কর্মী ও তাঁদের চাকরির সমস্ত সঠিক তথ্য ইনপুট করতে হবে, যার পরে ইলেকট্রনিক চালান-কাম-রিটার্ন (ECR) একটি অস্থায়ী রিটার্ন রেফারেন্স নম্বরের (TRRN) সঙ্গে যুক্ত হবে।
৪. এরপর নিয়োগকর্তা ইইসি ইনভয়েস তৈরি করে প্রয়োজনীয় অর্থ পরিশোধ করবেন এবং ডিজিটাল সিগনেচার সার্টিফিকেট (DSC) কিংবা ই-সাইন (eSign) ব্যবহার করে চূড়ান্ত ঘোষণা জমা দেবেন।

ইপিএফও সাফ জানিয়ে দিয়েছে এটি কোনো স্থায়ী ছাড় নয়, বরং এককালীন সম্মতি বা কমপ্লায়েন্স প্রদর্শনের সুযোগ। তাই সমস্ত ব্যবসার উচিত অবিলম্বে তাদের পুরনো বেতন সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখা এবং আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এই সুবর্ণ সুযোগটি কাজে লাগানো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *