অলিম্পিকে মেডেল আসবে কী করে, খেলাই তো হয় না! মোদীর কোন ‘তিক্ত সত্যে’ তোলপাড় দেশ?

অলিম্পিকে ভারতের পদক সংখ্যা বাড়াতে গেলে কেবল গুটিকয়েক খেলায় আটকে থাকলেই চলবে না, দেশের পরিধি বাড়াতে হবে সমস্ত অলিম্পিক ইভেন্টেই। সম্প্রতি ‘খেলো ইন্ডিয়া সংলাপ’-এ শত শত উদীয়মান ক্রীড়াবিদের সঙ্গে খোলামেলা মতবিনিময় করতে গিয়ে এমনটাই স্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। খেলাধুলা সংক্রান্ত তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি শুধু কয়েকটি মেডেল জেতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তিনি খেলাধুলাকে একটি শক্তিশালী ‘জাতি গঠন’ ও যুবশক্তিকে কাজে লাগানোর অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
প্যারিস অলিম্পিকের আয়না ও মোদীর ‘তিক্ত সত্য’
চলতি দশকের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের একটি কঠোর পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, অলিম্পিকের মোট ৩২টি সরকারি খেলার মধ্যে ভারত মাত্র ১৬টিতে অংশগ্রহণ করেছিল—যা অর্ধেকেরও কম। এই প্রসঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী এক প্রকার ‘তিক্ত সত্য’ তুলে ধরে বলেন, “অলিম্পিকে এত বিভিন্ন ধরনের খেলা রয়েছে, অথচ ভারতীয় দল তার অর্ধেকেরও কম খেলায় অংশ নেয়। আমরা পদক তালিকার একটা উল্লেখযোগ্য অংশের জন্যই লড়াই করি না, আর এই বন্ধ্যত্ব দশক ধরে চলে আসছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো সেই সমস্ত খেলায় সোনা বা পদক জিতছে, আর আমরা সেখানে অংশগ্রহণই করি না।” প্রধানমন্ত্রীর সাফ কথা, দেশের যুবসমাজকে বহুমুখী করে তুলতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অধরাই থেকে যাবে।
স্বাধীনতা দিবসে মেগা প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির ঘোষণা
দেশের খেলাধুলার এই কঙ্কালসার চিত্র বদলাতে এবং সর্বস্তরে ভারতের অংশগ্রহণ বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে গত ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে একটি বড় ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। লালকেল্লার প্রাচীর থেকে তিনি দেশব্যাপী এক বিশাল ‘প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি’ (ট্যালেন্ট হান্ট)-র রূপরেখা তুলে ধরেন।
এই নতুন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো— দেশের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে থাকা ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা কাঁচা প্রতিভাকে খুঁজে বের করা এবং উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের আগামীদিনের বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তোলা। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “এই ১৫ আগস্ট লালকেল্লার প্রাচীর থেকে আমি ভারতের ভবিষ্যৎ রূপকল্প জাতির সামনে রেখেছি। আমি যখন খেলাধুলার কথা বলি, তখন তা কেবল কয়েকটি পদক জেতার লড়াই নয়। এটি একটি উন্নত ও শক্তিশালী ভারত গড়ার লক্ষ্যে আমাদের যুবশক্তির সঠিক সদ্ব্যবহার করার এক বৃহত্তর অভিযান।”