কোয়ালকম-মিডিয়াকেন্দ্রের দিন শেষ? নিজস্ব শক্তিশালী চিপ এনে অ্যাপল-স্যামসাংকে কাঁপাতে চলেছে শাওমি!

বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন বাজারে নিজেদের আধিপত্য আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিল চিনা প্রযুক্তি জায়ান্ট শাওমি (Xiaomi)। অ্যান্ড্রয়েড জগতের অন্যতম শীর্ষ এই সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ করল তাদের নিজস্ব ইন-হাউস সিস্টেম-অন-চিপ (SoC) ‘এক্সরিং ০৩’ (Xring 03)। বিশ্বের প্রথমসারির সেমিকন্ডাক্টর প্রস্তুতকারী সংস্থা টিএসএমসি (TSMC)-র অত্যাধুনিক ৩-ন্যানোমিটার (3nm) প্রসেসে তৈরি করা হয়েছে এই ফ্ল্যাগশিপ চিপটি। আগামী মাসেই সংস্থার বহু প্রতীক্ষিত ফোল্ডেবল ফোন ‘শাওমি ১৮ ফোল্ড’ (Xiaomi 18 Fold) বাজারে আসার কথা রয়েছে, যেখানে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হবে এই নতুন চিপটি।

এত দিন প্রসেসরের জন্য মূলত কোয়ালকম (Qualcomm) বা মিডিয়াটেক (MediaTek)-এর মতো মার্কিন ও তাইওয়ানিজ সংস্থাগুলির উপর নির্ভর করতে হতো শাওমিকে। কিন্তু নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই চিপ বাজারে আসার ফলে সাপ্লাই চেইনের চেনা সমস্যাগুলি থেকে মুক্তি মিলবে। শুধু তাই নয়, প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপল, স্যামসাং এবং হুয়াওয়ের মতো চিপ প্রস্তুতকারী এলিট ক্লাবে নাম লেখাতে চলেছে শাওমি। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে কোয়ালকম ও মিডিয়াটেকের মতো জায়ান্টদের বিরাট প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হতে পারে।

আসছে শাওমি ১৮ ফোল্ড এবং মেগা বিনিয়োগ
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই চিনের বাজারে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে ‘শাওমি ১৮ ফোল্ড’। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ ফোল্ডেবল ইউনিট বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের, যা চালিত হবে এই নতুন ‘এক্সরিং ০৩’ চিপের দ্বারা। উল্লেখ্য, ২০২১ সাল থেকেই নিজস্ব চিপ তৈরির কাজে হাত দিয়েছিল শাওমি। এই বিশাল প্রকল্পে আগামী ১০ বছরের জন্য প্রায় ৫০ বিলিয়ন ইউয়ান অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭১ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এর আগে তাদের প্রথম প্রজন্মের ‘এক্সরিং ০১’ চিপ বেশ সাড়া ফেলেছিল। গত সপ্তাহেই সংস্থার এক ইভেন্টে জানানো হয়, ‘এক্সরিং ০১’ চিপযুক্ত প্রায় ১০ লাখ স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং স্মার্টওয়াচ ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে গেছে।

একনজরে ‘এক্সরিং ০৩’ চিপের তাকলাগানো স্পেসিফিকেশন:

প্রসেসর ও গ্রাফিক্স: এতে রয়েছে ১০-কোর সিপিইউ এবং শক্তিশালী ১৬-কোর জি২-আল্ট্রা এনএক্স জিপিইউ (G2-Ultra NX GPU)। কোম্পানির দাবি, আগের প্রজন্মের তুলনায় এতে ২৫ শতাংশ উন্নত সিপিইউ পারফরম্যান্স মিলবে।

পারফরম্যান্স: অ্যানটুডু (AnTuTu) বেঞ্চমার্ক টেস্টে এটি ৫২.২ লাখেরও বেশি পয়েন্ট অর্জন করেছে।

মেমোরি ও ব্যান্ডউইথ: এটি সর্বাধুনিক এলপিডিডিআর৬ (LPDDR6) মেমোরি সাপোর্ট করে, যা প্রতি সেকেন্ডে ১১৩.৮ জিবি পর্যন্ত ডেটা ব্যান্ডউইথ দিতে সক্ষম।

এআই ক্ষমতা: আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ফিচারের জন্য এতে রয়েছে ২০০ টিওপিএস (TOPS) টেনসর পারফরম্যান্স।

স্মার্টফোন ইন্ডাস্ট্রিতে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে শাওমির এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ আগামী দিনে বাজারের সমীকরণ যে পুরোপুরি বদলে দেবে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *